নির্বাচন নিয়ে শব্দযুদ্ধ

নির্বাচন নিয়ে শব্দযুদ্ধ

 ২৬ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরে এক সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘বলা হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে। তাহাজ্জুদের পরেই তারা সিল মারার পরিকল্পনা করছে। ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা এসব ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন।’

কারও কারও কথায় সাধারণ সৌজন্যবোধের অভাব চোখে পড়ার মতন। প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে গিয়ে তাঁরা প্রায়ই পরিমিতিবোধ হারিয়ে ফেলছেন। ব্যবহার করছেন এমন সব শব্দ ও বাক্য, যা শালীনতার স্বাভাবিক দেয়াল অতিক্রম করে যায়। শব্দবাণে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার জন্য এ রকম কলতলার ঝগড়া এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার নমুনা দেখেছি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে।

 ২৪ জানুয়ারি রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদের একটি নির্বাচনী জনসভায় ডাকসুর সাবেক অবস্থান সম্পর্কে বিষোদ্‌গার করতে গিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান এক পর্যায়ে বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’

আমরা জানি, ডাকসুর সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জয় পেয়েছে। তাদের জয়ের পেছনে নানা কারণ আছে। কিন্তু তাই বলে এর আগের ডাকসুতে জয় পাওয়া সংগঠনগুলো সম্পর্কে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রগল্‌ভ ও রুচিহীন। অথচ জামায়াত দাবি করে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাজনীতি করে। এ–ই তার নমুনা!

Explore More Districts