
তেহরান, ২৮ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরান নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির সরকার হরমুজ প্রণালী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘লাইভ-ফায়ার’ বা তাজা গুলিবর্ষণসহ সামরিক মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ইরান ইতিমধ্যেই ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান’ বা নোটেম জারি করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী এবং এর আশপাশের এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। এই উচ্চতার নিচে কোনো বিমান দেখা গেলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর ঠিক আগেই, গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর প্রবেশ করে। এই বহরটি পৌঁছানোর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকোম মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয়।
২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, তখন থেকেই ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের ফাটল ধরে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই শত্রুতা আরও গভীর আকার ধারণ করে।
পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। টানা ১২ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া দেশটির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।
যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই ১২ দিনের সংঘাত শেষ হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গত ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন নৌবহরটি ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায়। এর পরদিন মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সেন্টকোম সেখানে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয়।
সেন্টকোমের সেই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত, কারণ এই পথ দিয়েই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়ে থাকে।
এনএন/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬




