
ওয়াশিংটন, ২৮ জানুয়ারি – ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকোম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকোমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী বেশ কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর নবম স্কোয়াড্রন, যা এফসেন্ট (AFCENT) নামেও পরিচিত, তাদের মহড়া পরিচালনা করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ সেন্টকোম তাদের ভেরিফায়েড হ্যান্ডেল থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “এই মহড়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সেন্টকোমের আওতাধীন এলাকায় দ্রুত শক্তি মোতায়েন, শত্রুভাবাপন্ন বিমান বাহিনীকে প্রতিহত করা এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা প্রদর্শন করবে এফসেন্ট। আগামী কিছুদিন এই মহড়া অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের একটি বহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এই বহরটি পৌঁছানোর ঠিক পরের দিনই সেন্টকোম এই সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিল। ২৬ জানুয়ারি যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে মার্কিন রণতরীর বহরটি ওই অঞ্চলের জলসীমায় প্রবেশ করে, তখন এক বিবৃতিতে সেন্টকোম জানিয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করা হয়েছে।
চলতি জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই নৌবহরটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ওই সময়ে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। গত বছরের জুন মাসে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত পরিসরে সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছিল।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নেয়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযান না হলেও, যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো এবং বর্তমান সামরিক বিমান মহড়ার মতো পদক্ষেপগুলো ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ যেকোনো সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এনএন/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬



