ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই আলোচনার বার্তা ট্রাম্পের – DesheBideshe

ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই আলোচনার বার্তা ট্রাম্পের – DesheBideshe

ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই আলোচনার বার্তা ট্রাম্পের – DesheBideshe

তেহরান, ২৭ জানুয়ারি – মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী এবং একটি স্ট্রাইক গ্রুপ প্রবেশের পর ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি মনে করেন ইরান বর্তমানে আলোচনার বিষয়ে আগ্রহী। যদিও যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অভিযান পরিচালনা করায় তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেনি ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে, ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ এখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। তবে কৌশলগত কারণে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে ইরান যখন বিক্ষোভ দমনে অভিযান শুরু করে এবং ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তখন থেকেই হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে মিশ্র ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাইরের হস্তক্ষেপই কেবল ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে পরিবর্তন করতে পারে বলে দেশটির বিরোধীরা মত প্রকাশ করছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পাশে আমাদের একটি বড় নৌবহর রয়েছে। এটি ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড়।’ উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। আমি এটা জানি। তারা বহুবার ফোন করেছে। তারা কথা বলতে চায়।’ অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা দল প্রেসিডেন্টের সামনে যেসব বিকল্পগুলো তুলে ধরেছে কিংবা তিনি কোনটিকে বেশি পছন্দ করছেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে সামরিক স্থাপনায় হামলা কিংবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান শাসন করে আসা এই ব্যবস্থাকে উৎখাতে পূর্ণমাত্রার প্রচেষ্টা হিসেবে এমন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানি সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং শাহের পতনের পর থেকে ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই সরকার বর্তমানে সবচেয়ে নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, ইরান ইস্যুতে গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন তিনি। বর্তমানে ওয়াশিংটনের একমাত্র লক্ষ্য ইরানি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো। তিনি বলেন, তারা হয়তো আজ হত্যা বন্ধ করতে পারে, কিন্তু আগামী মাসে যদি ক্ষমতায় থাকে, তখন আবার হত্যা করবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও উত্তেজনা না বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

অতীতে তেহরান বলেছিল, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের একটি চ্যানেল খোলা রয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ইরানের রক্ষণশীল দৈনিক হামশাহরি দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী নাইনির বরাত দিয়ে বলেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী যদি ভুল করেও ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করে, তাহলেও সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। দেশটির আরেক দৈনিক জাভান জানিয়েছে, ইরান বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দখলে নেবে।

এনএন/ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts