যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে সাতজনের মৃত্যু, লাখো বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন – DesheBideshe

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে সাতজনের মৃত্যু, লাখো বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন – DesheBideshe

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে সাতজনের মৃত্যু, লাখো বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ২৬ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন তুষারঝড়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক লাখ বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ‘প্রাণঘাতী’ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

লুইজিয়ানায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টেক্সাস, টেনেসি ও কানসাসে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পাওয়ারআউটেজের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে আট লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, বিপর্যয়জনিত আবহাওয়ার কারণে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর তুষারপাত, বরফ পড়া এবং হিমশীতল বৃষ্টি হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতি কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের ওপর এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি।

লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে হাইপোথার্মিয়ার কারণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হাইপোথার্মিয়া মানে অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া।

টেক্সাসের অস্টিন শহরের মেয়র জানিয়েছেন, তুষারঝড়ে ঠান্ডার কারণে একজন মারা গেছেন।

কানসাসে এক নারীর মরদেহ তুষারে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সম্ভবত ঠান্ডার কারণে তিনি মারা গেছেন।

এছাড়া ঠাণ্ডার কারণে টেনেসিতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গত শনিবার টেনেসিতে অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল স্থানীয়দের ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের দেখা সবচেয়ে শীতল আবহাওয়া এবং সবচেয়ে বড় শীতকালীন ঝড়।’

হকুল বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের ঠান্ডা এবং সর্বোচ্চ তুষারপাত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এটি হাড় কাঁপানো ঠান্ডা এবং বিপজ্জনক।

কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যে পূর্বাভাসের তুলনায় বরফ বেশি এবং তুষার কম পড়েছে। তার মতে, এটি কেন্টাকির জন্য ভালো খবর নয়।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বরফ পড়া। বরফ পড়লে গাছ ভেঙে যেতে পারে, বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং রাস্তায় চলাচল অনিরাপদ হয়ে যেতে পারে।

ভার্জিনিয়া ও কেন্টাকির কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই রাস্তায় শতাধিক দুর্ঘটনা সামাল দিয়েছেন।

কানাডাতেও ভারী তুষারপাত হয়েছে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, অন্টারিও প্রদেশে ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার (৫ থেকে ১১ ইঞ্চি) তুষারপাত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুলগুলোতে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। মার্কিন সিনেটও সোমবার সন্ধ্যার জন্য ভোট স্থগিত করেছে।

ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন মেয়র মুরিয়েল বাউজার। তিনি বলেছেন, ‘এই সপ্তাহান্তে ডিসিতে আমরা দশকের সবচেয়ে বড় তুষারঝড়ের মুখোমুখি হচ্ছি।’

উত্তরের কিছু রাজ্য যেমন নর্থ ও সাউথ ডাকোটা এবং মিনেসোটার মানুষ শীতের সঙ্গে অভ্যস্ত। তবে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও টেনেসির মতো রাজ্যে এমন চরম ঠান্ডা সাধারণত দেখা যায় না। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা মৌসুমের গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি কমে গেছে।

এনএন/ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts