ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর, জানালেন ট্রাম্প – DesheBideshe

ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর, জানালেন ট্রাম্প – DesheBideshe

ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর, জানালেন ট্রাম্প – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ২৩ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বহর ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। একই সঙ্গে ইরানকে আবারও সতর্ক করে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার আহ্বান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, এই মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা বাড়বে এবং প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে, শুধুই সতর্কতার জন্য। আমি চাই না কোনো কিছু ঘটুক, তবে আমরা পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।”

আরেক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আমাদের একটি নৌবহর সেখানে যাচ্ছে এবং হয়তো সেটি ব্যবহার করতেই হবে না।”

গত সপ্তাহে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো যাত্রা শুরু করে। ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এর আগে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প বারবার কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও গত সপ্তাহে বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমে আসে। সে সময় তিনি দাবি করেন, তার হস্তক্ষেপের ফলে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আবারও একই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তার হুমকির পর ইরান প্রায় ৮৪০টি ফাঁসি কার্যকর করা বাতিল করেছে। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, যদি তারা ওই মানুষগুলোকে ফাঁসি দেয়, তাহলে এমন আঘাত আসবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক ঘণ্টা আগে ওই ফাঁসিগুলো বাতিল করা হয়েছে, যা তিনি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এর আগে উত্তেজনার সময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে হামলার আগে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছিল ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুনে চালানো হামলার পর ইরান যদি পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, “যদি তারা আবার চেষ্টা করে, তাহলে অন্য জায়গায় যেতে হবে। আমরা সেখানেও সহজেই আঘাত হানতে পারব।”

এনএন/ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts