গুডবুক ব্যাডবুক

গুডবুক ব্যাডবুক

সিডনি ফানেল-ওয়েব ভয়ংকর দেখতে! মৃত্যুদূতস্বরূপ। কাঠি কাঠি পা। ধাতব ভাব আছে গড়নে। সায়েন্স ফিকশন জাতীয় ভাবও বলা যায়। হলিউডের ‘ট্রান্সফরমার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবিতে কিছু স্পেশশিপ দেখানো হয়েছে সিডনি ফানেল-ওয়েবের মতো দেখতে।

‘এরা কী খায়?’

‘ক্ষুধার্ত থাকুক।’ সোল হাচ্চা বলল। আবার বলল, ‘মানুষের প্রাণ।’ বলে হা হা করে হাসল।

ছোট একটা কাচের শিশিতে প্রাণীটা। পৌনে দুই ইঞ্চি মতো হবে দৈর্ঘ্য।—চিটাগাইঙ্গা হত্যাকাণ্ডের মধ্যস্থতা যথারীতি বাতেন মামা করেছেন। সোল হাচ্চা বলেছে বাতেন মামা ‘হাচ্চা স্পাইডার সাপ্লাইয়ে’ আসেন নাই। নিভৃতে দেখা করেছিলেন। বাতেন মামার জন্য তবে একটা সারপ্রাইজ হতে পারে এই অষ্টবক্র প্রাণী।

বাতেন মামার গুডবুকে এখন টপে যে তিনজনের নাম আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে লো প্রোফাইলের মানুষ হলো আবু মুসা। ফকিরেরপুলের এস আর প্রিন্টিং প্রেসের মেশিনম্যানের অ্যাসিস্ট্যান্ট সে। বয়স ছেচল্লিশ–সাতচল্লিশ হবে। সাধারণ নিরীহ মুখাবয়ব। ছোটখাটো গড়নের মানুষ। হাজী বকশের মেসের তিনতলার ৪২ নাম্বার রুমের মুরুব্বি বাতেন মামা। আগের একজন বোর্ডার বিয়ে করে মেস ছেড়ে দিয়েছে। বাতেন মামা তার বদলি হিসাবে যাচাই–বাছাই করে আবু মুসাকে নিয়েছেন। বাতেন মামা মেসে থাকেন কেন? বাতেন মামাকে হত্যার চেষ্টা কেউ কখনো করে নাই? করেছে। বিফল হয়েছে।

কাইয়ুম কল দিল বাতেন মামাকে, ‘দেখা করব, মামা।’ বাতেন মামা সময় দিলেন সন্ধ্যায়। মেসে থাকবেন। কাইয়ুম দুপুরের আগে আগে এস আর প্রিন্টিং প্রেসে ঢুকল। আবু মুসাকে বলল, ‘নানা, চলো।’

আবু মুসা বলল, ‘কনে যাবু নানা?’

‘ভাত খাব।’

ফকিরেরপুলের সেরা ভাতের হোটেল এখন আল-বোগদাদীয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। এদের বেগুনভাজা, কালাভুনা অমৃত। ডাল অমৃত। চা অমৃত। ফুল কোর্স লাঞ্চ। কাইয়ুম বলল, ‘বিশেষ একজনের জন্মদিন উপলক্ষে এই সামান্য খাওয়াদাওয়ার আয়োজন, নানা।’

আবু মুসা বলল, ‘জন্মদিন? কার নানা? নানির নি?’

‘রাখো তোমার নানি। নানা তুমি সত্যি জানো না, বাতেন মামার জন্মদিন আজ?’

‘বাতেন মামার জন্মদিন!’

‘হ্যাঁ, নানা। আজ মানে আজ রাত বারোটায়।’

‘জানতাম না নানা। মাগরিবের নামাজে দাঁড়ায়ে তালি পর খাস দিলে দোয়া করবু তার লাগি।’

‘আরেকটা কাজ করতে হবে নানা।’

‘জি নানা?’

‘বাতেন মামাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে হবে।’

‘সারপ্রাইজ? বুঝলাম না, নানা।’

‘জন্মদিনের সারপ্রাইজ। এই যে, এটা।’

Explore More Districts