‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির – DesheBideshe

‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির – DesheBideshe

‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির – DesheBideshe

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬ অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জামায়াত আমির দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস। এই সংগ্রামে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মানবিক মর্যাদার জন্য লড়াই হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আবারও জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা, নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে এগিয়ে এসেছে।

জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি অন্ধকার অধ্যায় পার করে আমরা এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এই পথে এখনও বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবুও কর্মসংস্থানের মান কমে গেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক, অনিরাপদ এবং স্বল্প আয়ের কাজে নিয়োজিত। তরুণ শিক্ষিতরা শিক্ষাকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে পারছে না, আর নারীরা সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং পরিকল্পনার সক্ষমতা তৈরি করাই অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিপুল সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণ। দেশের ভেতরে শ্রমজীবী মানুষ এবং দেশের বাইরে প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থনীতি সচল রাখছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু অর্থনৈতিক অবদান নয়, বরং দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার বড় একটি উৎস।

নারীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজন।

সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে জামায়াত নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের নজিরও রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

শেষে তিনি বলেন, ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

এনএন/ ২০ জানুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts