
আমাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো লিভার। হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখা থেকে শুরু করে শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান বের করে দেওয়ার কাজটি লিভারই করে। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আর ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিসের মতো সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, লিভারের ক্ষতি অনেক বেশি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই আগেভাগেই ঝুঁকি এড়াতে এবং লিভার ভালো রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে ৩টি ক্ষতিকর খাবার বাদ দেওয়া জরুরি।
লিভার সুস্থ রাখতে যে ৩টি খাবার এড়িয়ে চলা দরকার, তা নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো—
১. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার
চিনি শুধু দাঁত বা ওজনের ক্ষতি করে—এমন নয়, এটি লিভারের জন্যও বড় শত্রু। চিনিতে থাকা ফ্রুক্টোজ ভেঙে লিভার শক্তিতে রূপান্তর করে। কিন্তু আমরা যখন অতিরিক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, ক্যান্ডি বা সোডা জাতীয় পানীয় গ্রহণ করি, তখন লিভার সেই বাড়তি ফ্রুক্টোজকে চর্বিতে রূপান্তর করতে বাধ্য হয়। এতে লিভারে মেদ জমে এবং ধীরে ধীরে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগ তৈরি হয়।
২. ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার কিংবা দোকানের অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই ধরনের চর্বি হজম করা লিভারের জন্য খুবই কঠিন। নিয়মিত এসব খাবার খেলে লিভারে প্রদাহ শুরু হয়, যা দীর্ঘদিন চললে লিভারের কোষ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৩. প্যাকেটজাত বা আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার
চিপস, ইন্সট্যান্ট নুডলস বা ফ্রোজেন খাবারের মতো প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত লবণ, প্রিজারভেটিভ ও কেমিক্যাল থাকে। বেশি লবণ শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করে এবং লিভারে ক্ষত বা স্কারিং তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি এসব খাবারে থাকা কৃত্রিম রঙ ও রাসায়নিক উপাদান লিভারের ডিটক্স করার ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।
লিভার সুস্থ রাখার কিছু সহজ উপায়
পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যাতে শরীর থেকে টক্সিন সহজে বের হয়ে যেতে পারে।
সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, ব্রকলি ও তেতো জাতীয় খাবার লিভারের জন্য উপকারী।
রসুন ও হলুদে থাকা সালফার ও কারকিউমিন লিভার পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
লিভারের নিজেকে নিজে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে। তাই আজ থেকেই ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে চললে লিভার ধীরে ধীরে আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
এনএন



