
ওয়াশিংটন, ১৬ জানুয়ারি – ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে নেপথ্যে পরিকল্পনার অভিযোগে পাঁচ ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ইরানের একটি কারাগারের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডার। বিবৃতিতে তাদের বিক্ষোভ দমনের ‘মূল রূপকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া নারীদের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক আচরণের’ অভিযোগে ইরানের ফারদিস কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি নেতারা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাচার করছেন কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সংকটময় সময়ে ইরানি জনগণের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র তা খুঁজে বের করবে। তিনি ইরানি নেতাদের সহিংসতা বন্ধ করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে, তা নিরসনে সরকার কাজ করছে। দুর্নীতি দমন ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠী বরাবরের মতো দেশটিতে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি কার্যকর করেছেন। এর লক্ষ্য হিসেবে তেল রপ্তানি বন্ধ করা ও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার কথা জানানো হয়েছে। যদিও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬




