ঝালকাঠিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড

ঝালকাঠিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড

১২ January ২০২৬ Monday ৩:৩৯:১৩ PM

Print this E-mail this


ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড

ঝালকাঠি জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বছরখানেক আগে এই অনিয়ম বন্ধ হয়েছিল বলে জানা গেলেও বর্তমানে আবারও তা সক্রিয়ভাবে শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

এমন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সার্জেন্ট হাসানকে রোববার ১১ জানুয়ারি দুপুরে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে ন্যস্ত করেছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

২৫ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি এই ১৫ দিন বিভিন্ন সময়ে ঝালকাঠির কৃষ্ণকাঠি পেট্রোল পাম্প মোড়, কলেজ মোড়, ফায়ার সার্ভিস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্টে সরজমিনে অনুসন্ধান করেছি আমরা। অনুসন্ধানে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের চাদাবাজির প্রমান মিলেছে। একাধিক পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট, টিএসআই ও এটিএসআইরা প্রকাশ্যে অর্থ আদায় করছে।

প্রতিদিনের অর্থ আদায় ছাড়াও পার্সেল পরিবহন, টমটম, ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস, দুরপাল্লার পরিবহন এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাভার ভ্যান থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করা হচ্ছে। দুরপাল্লার ৭০ টির অধিক যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি ৫০০ টাকা, মাইক্রো ষ্টান থেকে গাড়ি প্রতি ৩০০ টাকা, রিকুইজিশন না করে শুধু স্লিপ সরবরাহ করে স্লিপ প্রতি ৫০০ টাকাসহ এসব খাত থেকে প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখেরও বেশি অর্থ আদায় হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়া অন্য জেলা থেকে ঝালকাঠিতে প্রবেশকারী প্রতিটি পিকআপ ও ট্রাক থেকে নগদ ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠি শহরের প্রবেশদ্বার কৃষ্ণকাঠি পেট্রোলপাম্প মোড়েই এসব গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়।

ট্রাক ও কাভার ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র দেখার অজুহাতে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

অন্যদিকে শহরের ভেতরে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট পরীক্ষা করতে ব্যস্ত থাকলেও, ফিটনেসবিহীন ট্রলি ও টমটম গাড়ি নির্বিঘ্নে বীরদর্পে দাপিয়ে চলছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত মাসোয়ারার বিনিময়ে এসব অবৈধ যানবাহনের দিকে নজর এড়িয়ে চলছেন ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরতরা।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রহমত সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেয়ার বিষয়ে সিনিয়র স্যারের নিষেধ আছে।

জানাগেছে, ট্রাফিক পুলিশের তুষার, ইউসুফ শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বিভিন্ন কোম্পানির কাভার ভ্যানের মাসোয়ারা তোলেন। অন্যদিকে সার্জেন্ট হাসান মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ড, বাসটার্মিনাল থেকে মাসোয়ারা তোলাসহ রিকুইজিশন স্লিপ বিক্রি নিজেই করতেন।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি কেউ করলে ছাড় দেয়া হবেনা। ইতোমধ্যে একজনকে ক্লোজ করা হয়েছে।  অভিযোগ পেলে আগামীতেও শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts