বহুরূপী এক বুনো বিড়াল

বহুরূপী এক বুনো বিড়াল

একটি ছবি নাকি হাজার শব্দের সমান। তবে আমাদের দেশে এমন কিছু বিরল বন্য প্রাণী আছে, যাদের পাঠকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া রীতিমতো দুরূহ কাজ। যেমন ধরুন এশীয় সোনালি বিড়াল। নাম শুনে কমলা-সোনালি রঙের কোনো বিড়ালের কথা মনে আসাটাই স্বাভাবিক। ঘরে থাকা কমলা-সোনালি বিড়ালদের মতোই গায়ের রং। কোনো ভুল নেই। বিষয় হচ্ছে, মাঝারি আকারের এই বিড়াল আরও অনেক অনেক রঙের হয়ে থাকে। একে তো দুষ্প্রাপ্য প্রাণী। নাম সোনালি বিড়াল হলেও আছে বহুরূপী বৈচিত্র্য।

সোনালি বিড়ালের কথা বেশি লোকে জানে না। এ প্রাণী আমাদের দেশে আর নেই, আমি কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছি এ কথা শুনে শুনেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খানের ২০০৮ সালে লেখা একটি গবেষণাপত্র চোখে আসে।

ক্যাট নিউজ জার্নালের সেই প্রকাশনা বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সে সময় ভালো সংখ্যায় ছিল সোনালি বিড়াল। লেখাটির সঙ্গে ছিল শিকারির হাতে মারা পড়া বেশ কিছু সোনালি বিড়ালের জ্বলজ্বলে ছবি। সব কটিই সোনালি রঙের।

এর মধ্যে ২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয় এক চাঞ্চল্যকর খবর। সিলেটের কানাইঘাটে বেদম পিটুনির পর ধরা পড়ে এক কালো রঙের বিড়াল। কালো চিতাবাঘ বলে উদ্ধার হওয়া বিড়ালটি পরে মারা যায়। রেখে দেওয়া পেপার কাটিংটি দরকার হলো ২০১৮ সালে। যখন নিজেই পাহাড়ি বনে ক্যামেরা ট্র্যাপিং করছি। পুরোনো হয়ে যাওয়া খবরের পাতা উল্টাতে গিয়ে কেমন যেন খটকা লাগল। রং কালো হলেও আকার তো বাঘ-চিতাবাঘের মতো নয়। ঝাপসা হয়ে আসা ছবিতে ঠোঁটের পাশ দিয়ে বেশ লম্বা সাদা দাগ। এমন তো বাঘ-চিতাবাঘের থাকে না। তবে কি সোনালি বিড়ালেরই কোনো রূপ? অধ্যাপক মনিরুল এইচ খানের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলাম। বাংলাদেশের সীমানায় সোনালি বিড়ালের কালো রঙের এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র নমুনা।

Explore More Districts