বাংলাদেশে, এখনো, রাষ্ট্র কিংবা এমনকি নাগরিক পরিসরেও পরিবেশ—প্রশ্নটি প্রবলভাবে অ্যাথনোপোসেন্ট্রিক (মানুষকেন্দ্রিক)। বাজেট থেকে বিদ্যায়তন, উৎপাদন থেকে উৎকণ্ঠা, আহার থেকে আশ্রয়—সবকিছুই কেবল মানুষের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষের সংখ্যা বেড়েছে তরতর। কিন্তু নিদারুণভাবে নিখোঁজ হয়েছে বাঘ, শকুন, হাতি, বনরুই কী বটগাছ। চারপাশে তৈরি হয়েছে অনেক নতুন যন্ত্রণাময় পরিবেশ-বিশৃঙ্খল শব্দভান্ড। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ, দূষিত পানি, বননিধন, পাহাড় কাটা, বৃক্ষ উজাড়, কালো ধোঁয়া, ইটের ভাটা, কৃষিজমি হ্রাস, নদী দখল, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, সিসাদূষণ। পরিবেশগত এই বিপর্যয় মূলত করপোরেট ভোগবাদ আর বিনাশী উন্নয়ন বাহাদুরির ফলাফল।
পরিবেশগত সংকট ও বৈষম্যের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আঘাতের দাগ একাকার হয়ে সামাজিক বঞ্চনার রেখাকে দুর্লঙ্ঘ্য করে তুলছে প্রতিদিন। এই দেশে কেবল মানুষই জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি; দেশের নদী, পাহাড়, বন, জমিন, প্রকৃতি, শস্যদানা—সবারই জনসংগ্রামে অবদান আছে। তাহলে আজ পাখির লাশের হোটেল কেন থাকবে? বন্য প্রাণী বা গাছরা কেন খুন হবে প্রশ্নহীন? তিলবাজাল, পোড়াবিন্নি, নোনাখচি, রাতা, খবরক, মিমিদ্দিম, রাঁধুনিপাগল, লক্ষ্মীদীঘা, তালমুগুর, পঙ্খিরাজদের কেন তাদের বাসস্থান থেকে বাস্তুচ্যুত করা হবে! আর তুলসীমালা, গন্ধ কস্তুরি ধানগুলোকে কেন জুম থেকে জমিন উচ্ছেদ করা হবে?


