| ৩ October ২০২৫ Friday ৫:৫৮:২৬ PM | |

আল আমিন,বাবুগঞ্জ : মৌসুমি জেলেদের ব্যাপক প্রস্তুতির বিপরীতে অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, লোকবল সংকট নিয়ে ২২ দিনের ইলিশ রক্ষা অভিযান প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে মৎস অধিদপ্তরে উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে। ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সবধরনের ইলিশ আহরণ, ক্রয়,বিক্রয় ও পরিবহনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি সরকার। আর এই নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনকে কেন্দ্র করে মৌসুমি জেলেরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে ইতিমধ্যে নদীপারের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদী বেষ্টিত বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা।
উপজেলার ম্যাপ অনুযায়ী ৪০ কিলোমিটার জুড়ে তিনটি নদী বহমান। মৎস্য অফিস সূত্র জানাযায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মৎস্য অফিস অভিযান সফল করতে ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনটি নদীতে ৪ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও দুটি স্পিডবোট ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। রোটেশন আকারে রাতে দুইটি ট্রলার, একটি স্পিডবোট ও দিনেও একই পদ্ধতিতে অভিযান পরিচালনা হবে। মাঝে মাঝে জেলা থেকে কোস্টগার্ড ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করবে।
এদিকে তিনটি নদীতে দুইটি ট্রলার দিয়ে মৎস্য অভিযান কতটা সফল হবে তা নিয়ে টাক্সফোর্স কমিটির অনেক সদস্যের ভিন্ন মত রয়েছে। মৎস্য অফিস আরও জানায়, অভিযানের প্রস্তুতি হিসাবে তারা ইতিমধ্যে নদীপারের জেলেদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করেছেন। নদীগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে। টাক্সফোর্স কমিটির সভায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা আশাবাদী টাক্সফোর্স কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ এর নেতৃত্বে বিগত বছরের গুলোর চেয়ে এবার আরো সফল অভিযান হবে।
নদীপাড়ে ঘুরে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকারে জন্য উপজেলার সুগন্ধা, সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জাল-নৌকা মেরামত ও সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পরেছে মৌসুমি জেলেরা। শুধুমাত্র অভিযানের ২২ দিন মাছ শিকারের জন্য অনেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বাড়ীতে এসেছে।
এ সময়ে ইলিশ ধরার লক্ষ্যে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্পষ্টে মৌসুমি জেলে স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে। এরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ইঞ্জিন চালিত দ্রতগামী নৌকা ও অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করছে। মাছ শিকারের সুবিধার্থে নৌকায় ডাবল ইঞ্জিন বসানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও মৎস্য ব্যবসায়িদের মদদে বিভিন্ন পেশার মানুষ অধিক অর্থ লাভের আশায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।সন্ধ্যা, সুগন্ধা নদীর দেহেরগতির চরমলেঙ্গা,রাকুদিয়া,দোয়ারিকা,রামপটি,মানিককাঠী চরসাধুকাঠী,পুরান দোয়ারিকা,বকুলতলা, কেদারপুর খোয়াঘাট, রাজুগুরু ,মানিকবাঠি, চরসাধুকাঠি, পুরান দোয়ারিকা, উত্তর বাহেরচর, রাহুতকাঠি, পুরাতন শিকারপুর, কেদারপুর ও মোল্লার হাট, আড়িয়াল খাঁ নদীর মীরগঞ্জ, ছোট মীরগঞ্জ এলাকায় এক শ্রেণির অসৎ মৎসজীবি ও মৌসুমী মৎস্য শিকারীরা ইলিশ মাছ ধরার জন্য আগে থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতনরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মৌসুমী জেলে জানান, সারা বছর সে অন্য পেশায় কাজ করলেও এ সময় নদীতে বড় আকারের বেশি মাছ ধরা পড়ায় নদীতে নেমে পড়ি। তবে প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষা পেতে সোর্স ম্যানেজ করে চলি। প্রশাসন কখন অভিযানে নামবে সোর্সদের কাছ থেকে তা মোবাইলে জানতে পারি। বিনিময়ে তাদের দেওয়া ঠিকানায় পৌছে যায় ইলিশ।
বাবুগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.এফ.এম নাজমুস সালেহীন বলেন, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। নিষিদ্ধ সময় ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার জন্য নদীতে ও বাজারে মাইকিং করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময় কেউ ইলিশ শিকারে নদীতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত জেলেরা এসময় কম সংখ্যক লোক মাছ ধরলেও মৌসুমি জেলেদের দাপট বেড়ে যায়। মৌসুমি জেলেদের ঠেকানো আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


