| ৫ March ২০২৫ Wednesday ২:১৪:৫৮ PM | |
মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান
মেহেন্দিগঞ্জ ((বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কালাবদর নদে অভিযানকালে মৎস্য অধিদপ্তরের স্পিডবোট জেলেদের মাছ ধরা ট্রলারে উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় মিরাজ ফকির (৪০) নামের এক জেলে মারা যান। উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় গত সোমবার রাতের এ ঘটনার পর ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে দফারফা হয়।
স্থানীয় তথ্যমতে, গত সোমবার রাতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগের মেরিন ফিশারিজ অফিসার সুকান্ত কুমার রায় নিজেই মৎস্য কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁরা পথে কালাবদর নদের শ্রীপুর এলাকা থেকে বেশ কিছু জাল জব্দ এবং একজনকে আটক করে ফেরার সময় মিরাজ ফকির কয়েকজন লোক নিয়ে ট্রলারে করে ভাই রবিউলকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় জেলেদের ট্রলারের ওপর মৎস্য অধিদপ্তরের স্পিডবোট উঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জেলে মো. সোহাগ বলেন, মিরাজের ছোট ভাই রবিউলকে আটক করে অভিযানকারী দল। এ খবর পেয়ে একটি নৌকায় চার-পাঁচজন জেলেকে নিয়ে রবিউলকে ছাড়িয়ে আনতে যান মিরাজ। তখন অভিযানকারী দলের থেমে থাকা স্পিডবোটটি দ্রুতগতিতে চালু করে নৌকায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে মিরাজ গুরুতর আহত হলে চিকিৎসা না দিয়ে বোটে ফেলে রাখা হয়। একপর্যায়ে মিরাজ মারা যান।
মিরাজের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিত। তাকে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলেন জানান। তিনি বলেন, ‘ইউএনওর অফিসে ব্যস্ত আছেন।’ পরে আর ফোন ধরেননি ইমরান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘মৎস্য অফিসের স্পিডবোটে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা নিহত জেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, আশ্রয়ণকেন্দ্রে ঘর, বকনা বাছুর, ভিজিডি কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের দুটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আইনের আশ্রয় কিংবা ক্ষতিপূরণ। তারা ক্ষতিপূরণ নিতে রাজি হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া অভিযান কেন হলো এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় এ অভিযান করা হয়। এতে শতভাগ ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্পিডবোটের ধাক্কায় এক জেলে মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। ঘটনার শিকার পরিবার হয়তোবা মামলা না দিয়ে ক্ষতিপূরণ নিতে পারে। সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমার কাছে অভিযোগ না এলে কী করার আছে।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

