চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ওত পেতে ছিল শিশু অপহরণ চক্রের সদস্য দুলাল মিয়া। পাঁচ বছরের কন্যা ও ১৫ মাসের ছেলে শিশুকে নিয়ে বিপদে পড়া এক নারী তার ফাঁদে পড়ে। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাতভর ঘুরিয়ে ভাড়া বাসায় রাখেন ওই নারীকে। এরইমধ্যে প্রবাসী এক দম্পতির সাথে যোগাযোগ হয় দুলালের। ১৫ মাসের ওই শিশুর বিনিময়ে চুক্তি হয় লাখ টাকার। পরদিন কৌশলে শিশুকে নিয়ে চম্পট দেয় দুলাল। থানায় মামলার ৯ দিন পর ওই অপহরণের শিকার শিশুকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একইসেঙ্গ ধরা পড়েছে অভিযুক্ত দুলালসহ দুজন।
র্যাব বলছে— দুলাল মিয়া এবং তার পরিবার ভয়ংকর সক্রিয় অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত। এর আগেও তিনি একটি শিশু কন্যা চুরি করে মামলার আসামি হয়েছেন। আবার ওই মামলায় এখনো জেল খাটছেন তার স্ত্রী।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। একইসাথে গ্রেপ্তার করা হয় মোরশেদ নামে আরেকজনকে।
গ্রেপ্তার মো. দুলাল মিয়া (৪৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরেল থানার শোলাবাড়ি এলাকার দুধ মিয়ার ছেলে এবং মোরশেদ মিয়া একই থানাধীন শাখাইতি এলাকার ইজ্জত আলীর ছেলে।
র্যাব জানিয়েছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার পাঁচ বছরের কন্যা ও ১৫ মাসের ছেলে রাব্বিকে নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান। দুলাল মিয়া নামে একজনের সাথে পরিচয়ের সুবাদে নেত্রকোনাগামী ট্রেনের সময়সূচি জানতে চান ফাতেমা। ট্রেন নেই জানালে দুলাল মিয়াকে বোয়ালখালীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন ওই নারী। দুলাল ওই নারীকে সন্তানসহ কোতোয়ালীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে রাতে বাকলিয়া থানার বাসুর কলোনি নামক জায়গায় একটি কক্ষ ভাড়া করে রাখে।
পরদিন ফাতেমা সকালের নাশতা খেয়ে গোসলখানায় গেলে দুলাল মিয়া ১৫ মাসের শিশু রাব্বিকে নিয়ে পালান। এ ঘটনায় ফাতেমার স্বামী বাদী হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ এবং র্যাব-৭ যৌথ অভিযান চালিয়ে দুলালকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘দুলাল ব্রাহ্মবাড়িয়া জেলায় তার পরিচিত এক প্রবাসী দম্পতির কাছে এক লাখ টাকার বিনিমিয়ে অপহৃত শিশুটিকে বিক্রয় করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি, শিশুটি অপর আসামি মোরশেদের কাছে রয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে উদ্ধার করি। মোরশেদ প্রবাসে ১৭ বছর ছিল। সে ৫টি কন্যা সন্তানের জনক। ছেলে সন্তানের আকাঙ্ক্ষায় সে এই অপহরণ চক্রের সাথে যোগাসাজশে প্ররোচনা দিয়ে শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে যায়।’
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে দুলালের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি চুরি সংক্রান্ত মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও দুলাল সারা মনি নামে আড়াই বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছিল। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার স্ত্রী রুনা বেগম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।’
মাহবুব আলম বলেন, ‘দুলাল মিয়ার মোবাইলে বাচ্চা বিক্রি সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কথোপকথনের প্রাথমিক তথ্য আমরা পেয়েছি। আপাতদৃষ্টিতে, আসামি এবং তার পরিবার এক ভয়ংকর সক্রিয় অপহরণ চক্রের বলে জানা গেছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত ধরার বিষয়ে র্যাব সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এএইচ/সিটিজিনিউজ

