পাখির ডাক থেকে শুরু করে যে ভিখারি সকালবেলা কীর্তন গাইত, শ্যামা গান গাইত, বাবার সঙ্গে বসে যে শিল্পী বেহালা বাজাতেন এবং গাইতেন তাঁরাই তাঁকে সংগীতে এনেছেন বলে মনে করতেন তিনি। বলতেন, ‘এদের গলা, এদের গানগুলো আমি গলায় তুলেছি।’ ভালোবেসে গান গাইলেও বিরাট একজন সংগীতজ্ঞ হবেন, সবাই তাঁকে দেখার জন্য ছুটে আসবেন, এমন ভাবনা তাঁর ছিল না। তবে একটি বইয়ের কথা বলতেই হবে, যে বইটি হাতে না পেলে তাঁর সুর সৃষ্টির প্রতিভা বিকশিত হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারত। বইটা তাঁর দাদা তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। বইটি ছিল একটি ছড়া কবিতার বই। বইটিতে মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র ও বিষ্ণু দে—এই চার কবির কবিতা এবং ছড়া ছিল। বইটা হাতে পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত পড়তেন। ছড়া-কবিতাগুলো পড়ে আরাম পেতেন। আর পড়তে পড়তেই ১২ বছর বয়সে মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ধান কাটার গান গাই, লোহা পেটার গান’—কবিতাকে সুর দিয়ে গানে রূপ দেন তিনি। আরও অবাক করা ব্যাপার, ১২ বছর বয়সে করা সুরেই ১৯৯৪ সালে গানটা রেকর্ড করেন।


