সীতাকুণ্ডে কৃষি ও যুব উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে উদ্যোক্তা জোনের। এই উদ্যোক্তা জোনের বেশির ভাগই নারী উদ্যোক্তা।
ঘরে বসে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য ও সেবা বিক্রির এটিই সীতাকুণ্ডে একমাত্র প্লাটফর্ম। সিকিউর সিটি প্রপার্টিজ লি: সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থিত ২৮ নম্বর দোকানটির মালিক এখন সীতাকুণ্ডে এক একজন উদ্যোক্তা। শুরুতেই বিক্রি ভালো হওয়ায় উদ্যোক্তা জোনের বাজিমাৎ বলা চলে।
নারী উদ্যোক্তাদের কাজের সক্ষমতা তৈরি, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পরামর্শ প্রদান এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ করে দেওয়াই এই উদ্যোক্তা জোনের। এই উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছেন। এ তালিকায় আছে রান্নাঘরের মসলা থেকে শুরু করে পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্যসামগ্রী, হাতে তৈরি অলংকার, উদ্ভিদ ও প্রাণির জৈব চিকিৎসা, নার্সারী চারা বিক্রি ও তৈরি পরামর্শ সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা। উদ্যোক্তা জোন থেকে অনলাইনভিত্তিকও এই সেবা প্রদান করেন উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তা জোনের আয়োজক ও ‘সীতাকুণ্ড হোমমেইড ফুড’ প্লাটফর্মের সমন্বয়ক তাসফিয়া শাওন বলেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর ও স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসা থেকে যেসব নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তাঁরাই এ দোকানটিতে প্রদর্শনীতে এসেছেন। উদ্যোক্তাদের অনেকে কেবল অনলাইনে ব্যবসা করেন। এখানে আসার ফলে গ্রাহকদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের পণ্য ও সেবার সরাসরি সম্মিলন ঘটল।
শুক্রবার (১ নভেম্বর ) উদ্যোক্তা জোনের উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুল্লাহ। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও উপ সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়, সিকিউর সিটি প্রপার্টি লি: এর সেলস এন্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মোঃ আবুল হোসেন ও সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইসমাইল খানসহ অন্যারা।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সায়রা আমিস, মুনমুন ভুইয়া, সালমা আক্তার, খায়রুন নাহার নীলু, তাসফিয়া শাওন,সানজিদা ইয়াসমিন, জিয়াউদ্দিন বাবলু, আবু তাহের, ইমাত উদ্দিন চৌধুরী ও মোছাম্মৎ হাবীবা খাতুন।
একই ছাদের নিচে ৮ জন উদ্যোক্তা নিয়ে এই আউটলেটটি যাত্রা শুরু করেছে। এখানে প্রত্যেক উদ্যোক্তা তাদের ঘরে তৈরি জেম, জেলি, আচারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। তাদের বসার জায়গা ছিলো না এতো দিন সেই বসার স্থান হয়েছে। এটি এখন অব্যাহত থাকলে সীতাকুণ্ডে কৃষি ও যুব সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে বিশ্বাস রাখা যায়।
দোকানে মধ্যে কথা হয় ক্রেতা শাহ সুলতান শামীমের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে আসা উদ্যোক্তাদেও পণ্য দেখে মনে হলো, তাদের অনেক চেষ্টা আছে। পণ্যের রং, নকশা ও ফিনিশিংয়ে উচ্চ আভিজাত্যবোধ ফুটিয়ে তুলেছে। সম্ভাবনাময় এসব পণ্য গ্রাহক পর্যায়ে ভালো সাড়া পাচ্ছে। আমি শুনেছি দেশের বাইরেও তাদের পণ্য যাচ্ছে। সে জন্যই ছুটে আসছি। শুক্রবার ছুটির দিনে এখানে প্রচুর ভিড় হয়। এখানে যা কিছু আছে সবই ইউনিক দেখলাম।
উদ্যোক্তা মুনমুন ভুইয়া বলেন, ‘ দোকান দেওয়ার পর থেকে অনেকের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি; ব্যবসায় উদ্যোগকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তার কিছু ধারণাও পেয়েছি।’
‘সীতাকুণ্ড হোমমেইড ফুড’ প্লাটফর্মের সমন্বয়ক তাসফিয়া শাওন ৪০টির বেশি ধরনের আচার ও খাবার সামগ্রী নিয়ে দোকানে এসেছেন। এই দোকানে এসে গ্রাহকদের আরও কাছে যেতে পেরেছি। এ ছাড়া পণ্যের বিপণন নিয়েও বিস্তৃত ধারণা পেয়েছি। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত উদ্যোক্তা জোন খোলা রাখা হয়।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, প্রত্যেক উদ্যোক্তা অবশ্যই সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল। তাঁকে ঝুঁকি নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা বাড়াতে চান না। যেখানে আছেন,সেখানেই থাকতে চান। উদ্যোক্তা মনে করেন, তিনি ভালো অবস্থানে আছেন। তবে এটি টেকসই নয়। ব্যবসা টেকসই করতে অবশ্যই আওতা বাড়াতে হবে। সেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। উদ্যোক্তা জোনের গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে আছে জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজ।
দেশের অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে চান না। তারা সব সময় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চান। ব্যবসা বাড়াতে চান না। তা ছাড়া অন্যের দেখাদেখি অনেকে ব্যবসায় নেমে পড়েন। ব্যবসা শুরুর আগে প্রস্তুতি নেন না। এ কারণে উদ্যোক্তারা ব্যর্থ হন। এক সময় ব্যবসাও গুটিয়ে নেন। উদ্যোক্তারা যাতে নিজেকে গুটিয়ে না নেন তার জন্য এই উদ্যোক্তা জোন।
উদ্যোক্তা মুনমুন ভুইয়া বলেন, অনেক ফুটবল ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিটে দুই দল কোনো গোল করতে পারেন না। অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে দুই দলেন যে কোন একটি দলের পক্ষে গোল দিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। এই যে পুরো ৯০ মিনিট তারা খেলেছিল; মার খায়, হলুদ কার্ড পায়, তারপরও তারা থেমে যায়নি। যেকোনো উদ্যোক্তাকে এই ফুটবল ম্যাচের কথা চিন্তা করতে হবে। যেকোনো ব্যবসায় আপনার আইডিয়া বা ধারণা হচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ। বাকি ৯৯ শতাংশ হচ্ছে বাস্তবায়ন। আপনার আইডিয়াকে কতটা বাস্তবায়ন করতে পারছেন সেটিই দেখার বিষয়। আপনাকে অবশ্যই লেগে থাকতে হবে। শুধু দরকার আত্মবিশ্বাস। উদ্যোক্তাকে তার লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। এই লক্ষ্যই তাঁকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে, কিছুতেই হতাশ হওয়া যাবে না।
এসসি/সিটিজিনিউজ

