ফুলবাড়ী(দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত দুই দিনের ব্যবধানে আরো এক দফা বেড়েছে এলপি গ্যাস ও ভোজ্য তেলের দাম। একই সাথে পাল্লাদিয়ে বাড়ছে চিনি আটা ময়দা ও মোটা চালসহ নিত্যপন্যর দামও।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে যখন মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে. সেই বার্থিক সংকট কেটে উঠার পূর্বেই নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন জিনিসিপত্রের দাম আকাশচুম্বি হওয়ায় একেবারেই বেসামাল এই সাধারণ মানুষ। জিবন যাত্রার দিনদিন ব্যয় বাড়লেও, বাড়ছে না আয়। ফলে সংসার চলাতে হাঁসফাঁস উঠছে তাদের।এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক দফা ভোজ্য তেল, আটা ময়দা,ডিম,চিনি,চালসহ এলপি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পরেও চোখে পড়েনি বাজার মনিটরিং কার্য্যক্রম।
বাজার ঘুওে দেখা যায় শুক্রবার খোলা সোয়াবীল তৈল প্রতিকেজি ১৮০ টাকা, পামওয়েল খোলা ১৬৫ টাকা দওে বিক্রি হচ্ছে, এয়াড়া বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ১২ কেজিল এলপি গ্যাসে বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা। অথচ গত দুই দিন পূর্বেও ১ কেজি এলপি গ্যাসের মূল্য ছিল ১২৫০ টাকা, খোলা সোয়াবীন ১৭২ টাকা প্রতিকেজি পামওয়েল বিক্রি হয়েছে ১৫৫ টাকা। তৈল ব্যবসায়ী মতিপাল বলেন এশটি ট্রাক তেল চট্রগ্রাম থেকে বহন করতো খরছ হতো ২৫ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকা, বর্তমানে খরছ হচ্ছে ৩২ হাজার থেকে ৩৩ হাজার টাকা, এই কারনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে পাইকারী বাজারে কদিন আগেও নতুন দেশি পেঁয়াজ ২৮ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হলেও এখন তা ৪০ টাকায় উঠেছে ,সরু মিনিকেট চাল ৬৩-৬৪ টাকায়, নাজিরশাইল ৬৪-৬৫ টাকায়,আটাশ চাল ৫৬-৫৭ টাকা,প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৮০ টাকা, ছাগলের (খাসি) মাংস ৭৫০, মুরগি ১৫০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মসলাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও আকাশ ছোঁয়া। খুছরা ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারী বাজাওে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
নিত্যপন্যর বাজার নিয়ন্ত্রনে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিতে পারলে সামনে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এখন থেকে পাইকারি বাজারে মনিটরিং না বাড়ালে রমজানে বাজারের লাগাম ধরে রাখা কষ্টকর হবে।
বাজার করতে আসা ফজলু মিয়ার জানান, তিনি এক মাস আগেও বাজার থেকে সয়াবিন তেল কিনেছেন ১১০-১২০ টাকা লিটার। এখন তেলের দাম শুনে রীতিমত কপালের ঘাম ঝরছে, লিটার প্রতি সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৮০টাকা। তিনি বলেন শুধু তেল নয়,মশুর ডাল, চাল, চিনি,গ্যাসসহ সবকিছুর দাম এখন নাগালের বাইরে। হোটেল কর্মচারী গোপি নাথ বর্মন বলেন তিনি প্রতিদিন ৪শ টাকা হাজিরায় কাজ করেন . করোনার মধ্যে কয়েক মাস হোটেল বন্ধ থাকায় তিনি ব্যকার ছিলেন সে সময় অনেক ধার-দেনা কওে চলেছেন, বর্তমানে বাজার দও যে ভাবে বেড়েছে এখন তার সংসার চালায় কঠিন ঋন শোধ করবেন কিভাবে।
শুধু গোপি নাথ বর্মণ নয় বর্তমান বাজার দরে ক্রয়ের সক্ষমতা হারাতে বসেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।উপার্জনের সঙ্গে মিল অমিলের হিসেব কষতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভোক্তারা।
কলেজ শিক্ষক মাহাবুর রহমান বলেন বাজার মূল্য যে ভাবে বাড়তে শুরু করেছে তাতে সংসার চালায় কঠিন, এর উর সন্তানদেও লেখাপাড়ার খরছ চালা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন শুধু নিত্যপণ্য না এর বাইরেও, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম-বাসাভাড়া যাতায়াত ভাড়া।
সম্প্রতি ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দেখা গেছে খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামের চিত্র। এর প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। পরিবারের চাহিদা মিঠাতে গিয়ে দরিদ্র পরিবারের যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে। সম্প্রতি উপজেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকা থেকে দিনেদুপুরে টাকা ছিনতাইসহ বাসা-বাড়িতে চুরি ঘটনাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের এই অভাব অনটনকে পুঁজি করে সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা। সংসারের ব্যয়ভার মোটাতে ওইসব দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে ধরনা দিচ্ছে মধ্যবিত্তরা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দাদন ব্যবসায়ীরা চড়া সুদ গ্রহণ করছে । নুরল ইসলাম নামের এক কলেজ শিক্ষক জানান, যেভাবে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, সে তুলনায় আয় বাড়েনি তার। এতে করে পরিবারের চাহিদা পূরণে বাড়ছে ঋণের বোঝা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সম্প্রতি চাতাল-মিল মালিকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে বাজার মনিটরিং কার্য্যক্রম শুরু করা ববে বলে তিনি জানান।
The post ফুলবাড়ীতে মধ্যবিত্তদের নিরব কান্না নিম্নবিত্তদের হাহাকার appeared first on দিনাজপুর নিউজ.