চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়ন ও প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীতে আরও ৮৫টি গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ইতোমধ্যে ৭টি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে বলে চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় নগরীতে ৬০টি গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অবশিষ্ট ২৫টি গভীর নলকূপ ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে বসানো হবে। ইতোমধ্যে ওয়াসার অর্থায়নে নগরীতে ৭টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, নগরবাসীর মাঝে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এরমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
এসব প্রকল্পের পাশাপাশি নগরীতে আমরা ৮৫টি গভীর নলকূপ বসাবো। এরমধ্যে ৭টি রেডি হয়েছে। একটা থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটার পানি উঠবে। ৮৫টির মধ্যে ৩০টি বসানো হবে কালুরঘাটে। ওইখান থেকে পানি উত্তোলন করে বহদ্দারহাট আমাদের স্টেশনে নিয়ে আসবো। সেখান থেকে নগরীর বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও নগরীর উঁচু এলাকাগুলোতেও বসানো হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় নগরীতে ৬০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। অবশিষ্ট গভীর নলকূপ ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপন করা হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার ৯২১ কোটি টাকার ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। সরকার দেবে ৫৭৮ কোটি। চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেবে ৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটিকে গত ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী, এ কে খান, বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট, চাক্তাই এলাকার ৩০০ কিলোমিটার পুরাতন জরাজীর্ণ পাইপলাইন প্রতিস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে ১ লাখ অটোমেটেড স্মার্ট মিটারিংসহ ডিএমএ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। অবৈধ সংযোগের কারণে ৪০ হাজার সার্ভিস কানেকশনে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষম চাপে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অপচয় রোধ, নিরবচ্ছিন্ন ও সুষম চাপে পানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পটি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষ থেকে বন্দর–পতেঙ্গায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী এক–দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প–৩ নামে আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে মোহরা পানি শোধনাগার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। মদুনাঘাটে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে অথার্য়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক।

