সন্ধ্যা ঠিক ৭টা বাজতেই হঠাৎ করে চাঁদপুর শহরে নেমে এলো অন্ধকার। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়মূলক নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শহরের সকল দোকানপাট, শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে পুরো শহরজুড়ে নেমে আসে এক ভিন্নরকম নীরবতা।
জানা যায়, জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান, মার্কেট বা শপিং মল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা কার্যকর করতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। ফলে সরকারি এই নির্দেশনা মানতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যবসায়ীরা দোকান গুটিয়ে নিতে শুরু করেন।
সরেজমিনে চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোড, শপথ চত্বর, কালিবাড়ি, জেএম সেনগুপ্ত রোডসহ সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে জনবহুল মার্কেট-বিপনিবিতান গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে রাত নামার সাথে সাথে শহরের ব্যস্ত সড়কগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে পড়ে। অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের চলাচল কমে যায় এবং পুরো শহরে এক ধরনের নিস্তব্ধতা বিরাজ করে।
এ বিষয়ে শহরের একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে- তারা বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিচ্ছি। তবে হঠাৎ করে সময় কমিয়ে দেওয়ায় আমাদের ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে। বিকেলের পরই সাধারণত বেচাকেনা বেশি হয়, সেটাই এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।” ব্যবসায়ী আরো জানান, “দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত। তবে যদি বিকল্প কোনো সুবিধা বা সময় কিছুটা বাড়ানো হতো, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।”
অন্যদিকে, পথচারীদের মধ্যেও দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শহরের বাসিন্দা রাশেদা বেগম বলেন, “সন্ধ্যার পর বাজার করার অভ্যাস ছিল। এখন দ্রুত সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে দেশের প্রয়োজনে এটা মানতে হবে।”
একজন শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ সরকারের বেঁধে দেওয়া নতুন এই সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এটা ভালো দিক। কিন্তু শহরটা হঠাৎ করে খুব নির্জন হয়ে যায়, সেটাও একটু অস্বাভাবিক লাগে।”
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতজনিত পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশনা দেশের বিভিন্ন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও প্রযোজ্য হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা করা হলেও, এর প্রভাব শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে নানা আলোচনা।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
৬ এপ্রিল ২০২৬

