একটি ভাঙা সুইচ ও ফেল্ট-টিপ কলমের গল্প
অ্যাপোলো-১১ অভিযানের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ ভয়ংকর সংকটটি তৈরি হয়েছিল চাঁদের মাটি থেকে ফিরে আসার ঠিক আগে। চাঁদে হাঁটাহাঁটি শেষে আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন যখন আবার ইগলের ভেতরে ফিরছিলেন, তখন তাঁদের ভারী ব্যাকপ্যাকের ধাক্কায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্কিট ব্রেকার সুইচের প্লাস্টিকের অংশ ভেঙে যায়।
এ সুইচ (ইঞ্জিন-আর্ম সার্কিট ব্রেকার) ছিল লুনার মডিউলের আরোহণ ইঞ্জিন চালু করার জন্য অপরিহার্য। সুইচটি কাজ না করলে দুই নভোচারীর পক্ষে চাঁদ থেকে ফিরে কলিন্সের কমান্ড মডিউলে ওঠা সম্ভব হতো না।
অলড্রিন নিজের বই ‘ম্যাগনিফিসেন্ট ডেসোলেশন: দ্য লং জার্নি হোম ফ্রম দ্য মুন’-এ লিখেছিলেন, লুনার মডিউলের মেঝেতে ধুলার মধ্যে ভাঙা সুইচটি পড়ে থাকতে দেখে তিনি প্রথমে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। বিষয়টি হিউস্টনকে জানানো হলেও সারা রাত চেষ্টা করেও মিশন কন্ট্রোল কোনো সমাধান বের করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত অলড্রিন নিজেই একটি সমাধান খুঁজে বের করেন। ধাতব কিছু ব্যবহার করলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ঝুঁকি ছিল বলে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি সাধারণ ফেল্ট-টিপ মার্কার কলম বেছে নেন এবং সেটির প্লাস্টিকের ডগা সুইচের ভাঙা অংশে ঢুকিয়ে চাপ দেন। বিস্ময়করভাবে এ কৌশল কাজ করে এবং ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ-সংযোগ ফিরে আসে।
সেই ঐতিহাসিক কলমটি তৈরি করেছিল ডুরো কোম্পানি। এই কলম ও ভাঙা সুইচটি দীর্ঘকাল বাজ অলড্রিনের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল এবং বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের নামী জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়েছে। তবে অতিসম্প্রতি নিউইয়র্কের সদবিস নিলামে এ অনন্য স্মারক দুটি প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ডলারে বিক্রি হয়ে যায়।
এদিকে ওই দুর্ঘটনার পর ভবিষ্যতের অভিযানগুলোর জন্য সার্কিট ব্রেকারের ওপর প্রতিরক্ষামূলক আবরণ যুক্ত করার ব্যবস্থা নেয় নাসা, যাতে দুর্ঘটনাক্রমে আর কোনো সুইচ ভেঙে না যায়।
