৩৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

৩৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

৩৬ বছরের শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা


ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে উঠিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে বিদায় জানানো হয় বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে

শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায় বেলায় সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিবির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম কামাল উদ্দিন ওসমান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান শিক্ষকের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যলয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা।

প্রিয় শিক্ষককে ফুল দিয়ে বরণ করে মঞ্চে উঠিয়ে সংবর্ধনা দেন। ভালোবাসার স্মৃতিচারণ করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও সূধীজনরা। অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে উঠিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে বিদায় জানানো হয় বিদায়ী প্রধান শিক্ষক একেএম কামাল উদ্দিন ওসমানকে।

এসময় বক্তারা বলেন, বিদায়ী এ প্রধান শিক্ষক শূন্যতা কখনই পূরণ হবার নয়। স্যার অনেক ভালো শিক্ষক ছিলেন। শুরু থেকেই দেখেছি তিনি কখনোই সময়ের অপব্যবহার করতেন না। যথাসময়ে আসতেন এবং যথাসময়ে চলে যেতেন। যার কারনে আমদের সহকারি শিক্ষকদের কেউ ফাঁকিবাজি করার সুযোগ পেতো না। স্যার দক্ষতার সাথে স্কুল পরিচালনা করতেন। স্যারের নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা থেকে আমরা সহকারি শিক্ষকরা অনেক কিছু শিখেছি। এখান থেকে কোনো শিক্ষক যদি প্রমোশন নিয়ে কোথাও যান তবে স্যারকে অনুকরন করে তিনিও দক্ষতার সাথে একজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

বিবির হাট রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিনা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মু. সাইদুর রহমান স্বপন।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক একেএম কামাল উদ্দিন ওসমান বলেন, ১৯৯০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি দক্ষিণ চর আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৯৭ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দক্ষিণ চর রমিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করি। বিবির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১০ সাল থেকে আদ্যবদি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি।  আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা দিতে, তাদের সঠিক পথে চলতে শেখাতে। আজ এই ভালোবাসা ও সম্মান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

 

Explore More Districts