৩০ ঘণ্টা পর ভৈরব নদ থেকে গৃহবধূ বর্ণার মরদেহ উদ্ধার

৩০ ঘণ্টা পর ভৈরব নদ থেকে গৃহবধূ বর্ণার মরদেহ উদ্ধার

যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার বর্ণার (২৮) মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

জানা যায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে বর্ণা পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে উদ্ধার করতে না পেরে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের পাঁচ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালায়। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে শুক্রবার রাতেই উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

শনিবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। সারাদিন তল্লাশি চালানোর পর সন্ধ্যায় নওয়াপাড়া ভৈরব সেতু সংলগ্ন একটি বালিবাহী ড্রেজারের কাছে মরদেহটি ভেসে আটকে থাকতে দেখেন একটি লাইটার জাহাজের সদস্যরা। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে।

উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের টিম লিডার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। রাতের অন্ধকার ও আলোর স্বল্পতার কারণে অভিযান স্থগিত রাখতে হয়। শনিবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। অবশেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে বর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

নিহত বর্ণার বাবা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার মেয়েকে তার স্বামীর সিদ্ধান্তেই বিয়ে দিয়েছিলাম। বর্ণা আমার মেয়ে হলেও তার অভিভাবক ছিল তার স্বামী।”

বর্ণার স্বামী বলেন, “আমার কারও প্রতি কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই। আমার স্ত্রী খুব ভালো মনের মানুষ ছিল। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।”

Explore More Districts