
নিউইয়র্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারি – বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গত বছর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রাণহানি ঘটেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে।
বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে
২০২৪ সালের মতো গত বছরও দুই-তৃতীয়াংশ সাংবাদিকের প্রাণহানির ঘটনার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। এছাড়া ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের পরিচালিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন।
সিপিজে সাংবাদিকদের হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করা শুরুর পর এটি ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
সিপিজে যে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বা ‘হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যই ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গাজায় প্রবেশাধিকারে কড়াকড়ি থাকায় হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা কঠিন, তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের ওই গণমাধ্যম কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করে সেটিকে হুথিদের প্রচারণা শাখা হিসেবে অভিহিত করেছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত যেকোনো দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক নিশানাভিত্তিক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত ১২৯ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ১০৪ জনই সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান, যেখানে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া মেক্সিকোতে ৬ জন, ইউক্রেনে ৪ জন এবং ফিলিপাইনে ৩ জন সাংবাদিকের প্রাণহানি ঘটেছে।
এনএন/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




