| ১৭ January ২০২৬ Saturday ১০:১৩:২৩ PM | |
চরফ্যাশন ((ভোলা) প্রতিনিধি:

চরফ্যাশন উপজেলার চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তেঁতুলিয়া নদীর জলরাশির বুকে জেগে ওঠা চর মোতাহার, চর নিউলিন, সিকদারের চরের অন্তত ২০ হাজার মানুষের জন্য নেই কোনো হাসপাতাল কিংবা স্থায়ী চিকিৎসক।
চিকিৎসার ভরসা বলতে কেবল কয়েকটি হাতে গোনা ফার্মেসি। ফলে অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। অসুস্থ হলে নদী পেরোনোর আগেই যায় জীবন। অসুখ-বিসুখে সাধারণ মানুষ ঝাড়ফুঁক কিংবা অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসা অনিশ্চয়তায় এখানে বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
প্রায় ৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তনের এই দ্বীপচরটি সম্পূর্ণভাবে তেঁতুলিয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত। নদীপথে খেয়া পারাপারই এখানকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা। চরের অধিকাংশ বাসিন্দা জেলে ও কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অবহেলায় এখানকার মানুষের জীবন দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য এই চরে কোনো সরকারি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেই। নেই কোনো ধরনের সরকারি ওষুধ সরবরাহ। ফলে সামান্য অসুখ-বিসুখেও মানুষ ঝাড়ফুঁক কিংবা অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়াই একমাত্র ভরসা। তবে নদীপথে খেয়া পার হয়ে সেখানে যেতে হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীর তীব্র স্রোতে এবং নৌযানের স্বল্পতার কারণে অনেক সময় রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। বিশেষ করে রাতের বেলায় গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে নদী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোনো নৌ-অ্যাম্বুলেন্স।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। গর্ভকালীন পরীক্ষা, নিরাপদ প্রসব কিংবা নবজাতকের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক নারী ঝুঁকি নিয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চরের বাসিন্দা ফজল মাঝি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এই দীর্ঘ সময়ে সরকার একটি ক্লিনিকও স্থাপন করেনি। গুরুতর অসুস্থ হলে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না। আমরা যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছি।’
আরেক বাসিন্দা বিবি কুলসুম বলেন, ‘২০২৪ সালে গভীর রাতে আমার প্রসব বেদনা ওঠে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও নদী পার হওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে একজন ধাত্রী দিয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করাতে হয়।’
সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, ‘দ্বীপটিতে দ্রুত একজন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন এখন সময়ের দাবি।’
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা শোভন বসাক বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

