নগরীর হালিশহরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে একজন সোমবার মারা গিয়েছিলেন। গতকাল আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাফায়াত হোসেন শাওন (১৭)। দুপুরে সামির আহমেদ (৪০) এবং রাত পৌনে ১১টায় মারা যান পাখি আক্তার (৩৫)। দুপুর ১২টার দিকে সামিরের মৃত্যুর প্রায় ১১ ঘণ্টা পর তার স্ত্রী পাখিও চলে গেলেন। সকালে মারা যাওয়া শাওন সামিরের ভাতিজা। তারা সবাই জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এর আগে গত সোমবার বিকালে ঢাকায় নেওয়ার সময় নুরজাহান বেগম রানী (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। সকালে মারা যাওয়া শাওন নুরজাহান আকতার রানীর পুত্র। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪ জনে দাঁড়াল।
উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত শেষ রাতে সেহেরির সময় হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলার রান্নাঘরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপর পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা দুই ভাইয়ের পরিবারের মোট ৯ সদস্যের সকলে শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ৯ জন অগ্নিদগ্ধকে ৯টি পৃথক অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার কাছাকাছি গিয়ে পথিমধ্যে নুরজাহান আকতার রানী (৪০) নামে এক নারী মারা যান। তিনি গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। সাখাওয়াত হোসেনেরও শ্বাসনালীর শতভাগ পুড়ে গেছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান সাংবাদিকদের জানান, সকালের দিকে শাওনের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তবে তার ইনহেলিশন ইনজুরি ছিল।
অগ্নিদগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন। বাকি ৫ জন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন নুরজাহান আক্তার রানীর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), ছোট মেয়ে আইমান (৯), সাখাওয়াতের ভাই শিপন (৩০), নিহত সামির আহমেদের বড় ছেলে আনাস (৭) ও ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার (৪)। ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান ডা. শাওন।
এদিকে ঘটনা তদন্তে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহ্ম্মদ জানান, দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে দেখবে।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ–সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

