স্বামী বিবেকানন্দ: বিশ্বমানবতার চিরন্তন প্রেরণা

স্বামী বিবেকানন্দ: বিশ্বমানবতার চিরন্তন প্রেরণা

বিবেকানন্দর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষের মর্যাদা। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরীয় শক্তি নিহিত রয়েছে। তাই নিজেকে দুর্বল বা অসহায় না ভেবে নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে প্রত্যেকটি মানুষকে।

এ আদর্শেই তিনি সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘ওঠো, জাগো এবং এগোও!’ আজও এই শাশ্বত বাণী যুবসমাজকে কর্ম, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের শিক্ষায় দীক্ষিত করে। নারীশিক্ষা, সাধারণ মানুষের শিক্ষা, জাতীয় চরিত্র গঠন ও মানবসেবার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্ব আধুনিক ভারত নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ গড়ে তোলাও ছিল বিবেকানন্দর অন্যতম কৃতিত্ব। তিনি পাশ্চাত্যকে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আবার ভারতীয়দের পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবতাবাদ ও আধুনিক শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শেখান।

তাঁর কাছে ধর্ম ছিল বিভেদের নয়, ঐক্যের শক্তি; মানবসেবাই ছিল ঈশ্বরসেবার শ্রেষ্ঠ পথ।

মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ১৯০২ সালের ৪ জুলাই স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে মহাসমাধি লাভ করেন। কিন্তু তাঁর জীবনাদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আত্মবিশ্বাস, মানবপ্রেম, কর্মযোগ, সর্বধর্মসমন্বয় ও জাতীয় পুনর্জাগরণের যে বাণী তিনি রেখে গেছেন, তা কেবল ভারতের নয়, পুরো বিশ্বের কাছে অমূল্য সম্পদ।

তাই স্বামী বিবেকানন্দ শুধু একজন মহান সন্ন্যাসী নন, তিনি বিশ্বমানবতার এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস।

Explore More Districts