স্বাভাবিক হচ্ছে চট্টগ্রামের হাজারি গলির পরিস্থিতি – Chittagong News

স্বাভাবিক হচ্ছে চট্টগ্রামের হাজারি গলির পরিস্থিতি – Chittagong News

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন টেরিবাজার এলাকার কাছে হাজারি গলির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বুধবার দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল পুরো এলাকায়। কোথাও কোনো সহিংসতা বা বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার রাতভর যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। এ সময় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। পুরো এলাকার দোকানপাট সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর দামপাড়ায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরে যৌথবাহিনী। টাস্কফোর্স-৪-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ ঘটনার নানা দিক বর্ণনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একজন করে প্রতিনিধি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরপর থানায় হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনার শুরুর দিকের পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওসমান আলী নামের একজন ব্যবসায়ীর ইসকনবিরোধী একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হাজারী লেনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আনুমানিক ৫০০-৬০০ জন দুষ্কৃতিকারী হাজারী লেনে ওসমান আলী ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে জড়ো হন। স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যদের ৬টি টহল দল উক্ত এলাকায় পৌঁছায়। বিশৃঙ্খলাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জানমাল রক্ষা এবং মব জাস্টিস রোধে যৌথবাহিনী ওসমান আলী ও তার ভাইকে উক্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

উত্তেজিত জনতাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও এক পর্যায়ে উগ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এ সময় দুর্বৃত্তরা যৌথবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে জুয়েলারির কাজে ব্যবহৃত এসিড হামলা চালায় এবং ভারী ইট-পাটকেলসহ ভাঙা কাচের বোতল ছুড়তে শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্যসহ ৭ পুলিশ সদস্য আহত হন।

দুর্বৃত্তরা এ সময় যৌথবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে জুয়েলারির কাজে ব্যবহৃত এসিড দিয়ে হামলা চালায়। ভারী ইটপাটকেলসহ ভাঙা কাচের বোতল ছুড়তে শুরু করে। এতে সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্য এবং ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত সেনাসদস্যরা বর্তমানে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উদ্ধার অভিযানের পর দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে যৌথবাহিনীর ১০টি টহল দল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই এলাকায় যায়। এরপর লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা ফের যৌথবাহিনীর ওপর এসিড ছুড়তে শুরু করে। এ সময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৮০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

হাজারি গলির দোকান সিলগালার বিষয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যের ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীদের কোনো পলিটিক্যাল পরিচয় আসলে আসে না। তাদের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নেই। তাদের কোনো পরিচয় নেই।

এদিকে বুধবার সকালে নগরীর টেরিবাজার এলাকার হাজারি গলিসহ আশপাশের দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এসব দোকানের মধ্যে আছে স্বর্ণ এবং ওষুধের দোকান। ওষুধের দোকানের বেশিরভাগ পাইকারদের। নগরীর বড় অংশের ওষুধের সরবরাহ আসে এসব দোকান থেকে। অনেক খুচরা ওষুধের ক্রেতা দোকান বন্ধ দেখে ফিরে গেছেন। অল্প কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও সেখানে তেমন ক্রেতা নেই। টেরিবাজার থেকে হাজারি গলি সড়কের প্রবেশ পথের গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন আছে প্রচুর পুলিশ। কেসিদে সড়কের মুখেও আছে পুলিশ। তবে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

দোকানদাররা জানান, মঙ্গলবার রাতভর পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। রাতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।

সিএমপির এডিসি (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সেখানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে যাকে অবরুদ্ধ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওসমান আলী বর্তমানে কাস্টডিতে আছে। যদি এখানে কেউ ধর্মীয়ভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছে এমন অভিযোগ ওসমান আলীর বিরুদ্ধে নিয়ে আসে তা হলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় নগরের কোতোয়ালি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত ৮০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এসসি/সিটিজিনিউজ

Explore More Districts