স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু জরুরি

স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু জরুরি

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ বলেন, অভিভাবকেরা সন্তানের যত্ন নেন না, তা নয়। তবে প্যারেন্টিং একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, যাতে তার মানসিক সমস্যা তৈরি না হয়। সন্তানকে যথাযথভাবে পালন করে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা পেলে একটি দেশে সুস্থ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৪ শতাংশই চিকিৎসার আওতায় থাকেন না। যথাযথ চিকিৎসার বিষয়কে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়। এ বাজেট বাড়ানো দরকার। স্কুলে স্বাস্থ্য বলতে শুধু ভিটামিন ও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক দেওয়ান মো. ইমদাদুল হক। তিনি জানান, দেশে মানসিক স্বাস্থ্য রোগে ভুগছে ১৮ শতাংশের বেশি মানুষ। শিশুদের মধ্যে এ হার প্রায় ১৪ শতাংশ। ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশের আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। বছরে ১০ থেকে ১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছেন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্য–উপাত্তের অভাব, আলাদা প্রশিক্ষণ মডিউল না থাকা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ সেবা না থাকা, বাজেট ঘাটতি, সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক সংস্কার, বৈষম্য ইত্যাদি। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে শুরুতে সমস্যা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকাভিত্তিক সেবা ও স্কুল পর্যায়ে সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

Explore More Districts