বক্তারা বলেন, শুধু এশিয়া উপমহাদেশখ্যাতই নয়, বিশ্ববরেণ্য সংগীতাচার্য ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা গোটা বাংলাদেশর গর্ব। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ২০১৬ ও ২০২১ সালে একাধিকবার অগ্নিসংযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। জেলা শহরের পুরোনো জেলা রোড এলাকায় সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তাঁর নিজের বাড়িতে নিজের নামে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি জাল দলিলের মাধ্যমে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের ভূমি দখলের অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে একটি ভূমি দখল চক্রের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনের জায়গা ভূমিখেকোদের হাত থেকে রক্ষার জন্য দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সংস্কৃতিকর্মী মঞ্চের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মানববন্ধনে ভূমিখেকো চক্রের এ ধরনের ঘৃণ্য অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি চলমান ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কালচারাল কমপ্লেক্স প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশের পর একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহরের হালদারপাড়ার খুরশেদ মিয়া খাঁ এবং আলাউদ্দিন খাঁর বড় মেয়ে সরিজা বেগমের ছেলে মিজানুর রহমান, মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও সেলিম মিয়া একটি দানপত্র দলিলমূলে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিএস খতিয়ান সংশোধনের একটি মামলা করেন। আরজিতে তাঁদের দাবি, তাঁরা সংগীতাঙ্গনের ভেতরে ঘর নির্মাণ ও পুকুরে মাছ চাষ করে ৮ শতাংশ জায়গা ভোগদখলে আছেন। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ কাজী কামরুল ইসলাম গত ২৫ মে এই মামলার রায় দেন। বিচারক বিনা খরচে ডিক্রি জারি করে বিএস জরিপ সংশোধনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এর ফলে আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে।

