
মৌলভীবাজার, ১২ জুন – বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চপর্যায়ে যখন সীমান্ত সমস্যা ও পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে ইতিবাচক কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মজিবুর রহমান।
স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধিদের সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ বিকেলে দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকা সংলগ্ন মনু নদীতে নেমেছিলেন মজিবুর রহমান। নদীর পানি বা সীমানার গতিপ্রকৃতিতে কোনোভাবে তিনি ভারতীয় সীমানার ভেতরে প্রবেশ করামাত্রই ওপার থেকে বিএসএফ জোয়ানরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে।
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মজিবুর ভারতীয় সীমানার দিকে চলে গেলে বিএসএফ তাকে সরাসরি গুলি করে। গুলি লাগার পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত তার মরদেহটি সীমান্তের জিরো পয়েন্ট বা নদী তীরবর্তী ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।”
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের খবরের সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আইনি প্রক্রিয়া ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে দুর্গম সীমান্ত এলাকার ওই ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক গুলির ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং সীমান্তে ঠিক কোন পয়েন্টে এই ঘটনা ঘটলো, তার বিস্তারিত তথ্য ও খতিয়ান সংগ্রহের কাজ করছে বিজিবি।
আজ দুপুরেই নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি নিজেকে বিদেশি মনে করি না, বিশ্বাস ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ সমাধান করা সম্ভব।” কিন্তু তার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের এই প্রাণঘাতী গুলি দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিএসএফের ‘নন-লেথাল উইপন’ (অপ্রাণঘাতী অস্ত্র) নীতির কার্যকারিতাকে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।
বিজিবির পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে দ্রুত পতাকা বৈঠকের (Flag Meeting) আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে।
এনএন/ ১২ জুন ২০২৬



