সীতাকুণ্ডে বেপরোয়া মাইক্রোবাসের চাপায় যুবকের মৃত্যু – দৈনিক আজাদী

সীতাকুণ্ডে বেপরোয়া মাইক্রোবাসের চাপায় যুবকের মৃত্যু – দৈনিক আজাদী

সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের জলিল গেট এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি মাইক্রোবাসের চাপায় গুরুতর আহত হওয়ার চারদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৬ জুলাই) রাতে মারা গেছেন ইয়াছিন আরাফাত রনি (৩০)।

চারদিন ধরে হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে। ২৪ জুলাই বিকেল ৪টায় রাস্তা পারাপারের সময় দূর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ইয়াছিন আরাফাত রনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের লাল মিয়া সারেং বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত মোহাম্মদ ইসলাম ওরফে ইসলাম ফকিরের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ফৌজদারহাটের জলিল গেট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া গতির মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চারদিন ধরে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও রোববার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ফৌজদারহাটের জলিল গেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা ওই এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, রনি খুবই শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে ছিল। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছে। অভাব-অনটনের মধ্যেও পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু একটি বেপরোয়া গাড়ির কারণে আজ সেই পরিবার তাদের একমাত্র ভরসাটুকুও হারাল। চারদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও বাঁচতে পারল না। এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রনির স্বজনরা বলেন, পরিবারের একজন কর্মক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিন আগেও সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা রনি এখন শুধুই স্মৃতি। তার অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

Explore More Districts