সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। এছাড়া ওই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। লরির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গত মঙ্গলবার সকালে আইআইইউসি’র ছাত্রী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর পর এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ ও সড়ক প্রশস্তকরণের কাজও শুরু হয়েছে। মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। তারই প্রেক্ষিতে এসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মহাসড়ক ও রেললাইনের মধ্যবর্তী এলাকায় গতকাল অবৈধ পার্কিং ও দখল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক প্রশস্তকরণের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত কেডিএস ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় কেডিএস কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।
অভিযানে অবৈধ দখল ও সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ঘটনায় ১৫টি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিআরটিএ জানায়, সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মিল, ফ্যাক্টরি, কলকারখানা এবং বিভিন্ন পণ্য পরিবহন কোম্পানির ডিপোতে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ, পার্কিং, চলাচল, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে একটি সচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক–এর দিকনির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্বিক সহযোগিতায় এ সচেতনামূলক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিচালনা করা হয়। উক্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের ভ্রাম্যমান আদালত–১১ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা। উপস্থিত ছিলেন ভাটিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ–সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এস এম হেলাল উদ্দিন, সীতাকুণ্ড সড়ক ও জনপদ উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপ–পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ–পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিদসহ বিআরটিএর অন্যান্য কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টোটাল গ্যাস কোম্পানি, কেডিএসসহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যানবাহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর সর্তকতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাঙ টোকেন বিহীন যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং যত্রতত্র শৃঙ্খলা বিহীনভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের অপরাধে ১৫টি তাৎক্ষণিক মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত গাড়ির চালক ও মোবাইলে মালিকদের সাথে কথা বলে সতর্ক ও সংশোধন হওয়ার জন্য বলা হয়।
জেলা প্রশাসন জানায়, নিহত শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের পরিবারকে বিআরটিএ’র মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির মালিকপক্ষ শনাক্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় একটি লরির ধাক্কায় যাত্রীবাহী মিনিবাস উল্টে আইআইইউসির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের উপর পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও এক শিক্ষার্থীসহ দু’জন। শিক্ষার্থী মৃত্যুর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার ও চালক–মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।


