সিলেটে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বোরহান উদ্দিন শফি (৫৯) নামে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সিলেটের জকিগঞ্জের ইলাবাজ গ্রামের সাব্বির আহমদ (২১), একই উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামের তাহিরুল হক (২০) এবং নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভন (২০)। এদের মধ্যে সাব্বির ও শোভন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের মাসেরচক হাওর এলাকায় শফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতে হত্যাকারীরা নিথর দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি মরদেহ দ্রুত গলিয়ে ফেলার জন্য লবণও ব্যবহার করা হয়। ঘটনার চার দিন পর গলায় দড়ি প্যাঁচানো ও দগ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি লবণের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছিল।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, প্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তাহিরুল হকের কাছ থেকে নিহত প্রবাসীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত বোরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলার অন্য আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

