সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ – DesheBideshe

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ – DesheBideshe

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ – DesheBideshe

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি – সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের মালিকানাধীন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি এবং বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের হিসাবও অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে স্থাবর সম্পদ জব্দের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের এইচএম ল্যান্ড রেজিস্ট্রি, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট রেজিস্ট্রার, নিউইয়র্ক অ্যান্ড ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের জন্য দুবাই ইসলামিক ব্যাংক, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক এবং বাংলাদেশের জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল আদালতে এই সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন এবং দুদকের পক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমিসহ বিপুল স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব সম্পদ কেনা হয়, যখন তিনি বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। দেশেও তার নামে চট্টগ্রামের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়কর নথিতে এই বিপুল বিদেশি সম্পদের কোনো উল্লেখ নেই। বিদেশে সম্পদ গড়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পূর্বানুমোদনও নেওয়া হয়নি। এমনকি নির্বাচনি হলফনামায়ও তিনি বিদেশে সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন বলে রেকর্ডপত্রে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রী ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচার করে তিনি এসব সম্পদ গড়েছেন। সাইফুজ্জামান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরে তার স্ত্রী রুকমীলা জামান ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ব্যাংক থেকেও তারা নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে সত্যতা মিলেছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আদালত সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএফআইইউ তাদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় এবং সাইফুজ্জামানের ভাই ও তার পরিবারের ব্যাংক লেনদেনও স্থগিত করা হয়।

এস এম/ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts