সাবেক এমপি মহারাজ দম্পতি ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

সাবেক এমপি মহারাজ দম্পতি ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

১০ March ২০২৬ Tuesday ১০:৪৫:২২ PM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

সাবেক এমপি মহারাজ দম্পতি ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা তিনটি দায়ের করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। 

এর আগে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক তদন্ত করেন দুদকের পিরোজপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে মহিউদ্দিন মহারাজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, মার্কেট ও দোকানসহ ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার ৪২৫ টাকার স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও দুটি বিলাসবহুল গাড়িসহ ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য মেলে। 

২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার বৈধ উপার্জন পাওয়া যায় মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা। কোনো দায়-দেনা না থাকায় তার ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার সম্পদ অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছে দুদক।

একইভাবে, মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার কর পরিশোধ ও পারিবারিক ব্যয় ৫১ লাখ ১ হাজার ৬৮৪ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয় ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা হওয়ায়, বাকি ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৬ টাকার সম্পদকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মহারাজ দম্পতির ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির মোট আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৬৭৬ টাকা। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার পড়াশোনার ব্যয় ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মোট অর্জন ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৬ টাকার বিপরীতে তার বৈধ আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। ফলে তার অবৈধ অর্জনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা।

এজাহারে দুদক উল্লেখ করেছে, ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। পিতা মহিউদ্দিন মহারাজ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ছেলের আয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এই অবৈধ অর্থ ইফতির দখলে থাকায় তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর এলজিইডি থেকে দরপত্রের নামে কোনো কাজ না করে বিভিন্ন সময়ে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহারাজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুদকের ৮টি দুর্নীতির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts