চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও শিল্পপতি সরওয়ার আলমগীর বলেছেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক ও সমাজের দর্পণ। তাদের লেখনির মাধ্যমে দিশেহারা জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ফটিকছড়ি সাংবাদিক পরিষদ-চট্টগ্রাম আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরওয়ার আলমগীর বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে এবং ভুল-ত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। তবে কিছু গোষ্ঠী কখনো কখনো তাদের ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকদের ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালায়। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কিছু সাংবাদিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছিলেন, যা গণমাধ্যমের জন্য দুঃখজনক।”
তিনি সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই হত্যার বিচার ১২ বছরেও হয়নি। ফ্যাসিস্ট সরকার এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে দেয়নি, যা প্রমাণ করে যে সরকারই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।”
সরওয়ার আলমগীর ফটিকছড়ির নানা সমস্যা তুলে ধরে বলেন, “ফটিকছড়ি থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলেও স্থানীয়দের জন্য তা বরাদ্দ করা হয়নি। আমি অবিলম্বে ফটিকছড়ির ১৮টি চা বাগানসহ আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংযোগের দাবি জানাচ্ছি।”
সরওয়ার আলমগীর বলেন, “একটি মহল নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করছে, যা দেশের জন্য শুভ নয়। নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, ষড়যন্ত্র তত বাড়বে। অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত।”
ইফতার মাহফিলে সংগঠনের সভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ জামানের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি।
এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ফটিকছড়ি বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুল আলম চৌধুরী, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন আজম তালুকদার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছালেহ নোমান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এস এম ইফতেখারুল ইসলাম, নির্মল চন্দ্র দাশ, প্রবীর বড়ুয়া, সৈয়দ তারেকুল আনোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক শেখ মোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু বড়ুয়া, আহসানুল কবির রিটন, গোলাম সরওয়ার, এম আর আমিন, জীবন মুছা, সুমন কুমার দে প্রমুখ।
এসসি/সিটিজিনিউজ

