সরিষাবাড়ীতে স্বামীর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্ত্রীর আত্মহত্যা – দৈনিক আজকের জামালপুর

সরিষাবাড়ীতে স্বামীর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্ত্রীর আত্মহত্যা – দৈনিক আজকের জামালপুর




সরিষাবাড়ীতে স্বামীর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্ত্রীর আত্মহত্যা – দৈনিক আজকের জামালপুর



মোস্তাক আহমেদ মনির
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অনলাইনে জুয়া খেলে ঋণগ্রস্ত স্বামীর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ও পারিবারিক কলহের জেরে আমেনা খাতুন (৩২) নামে দুই সন্তানের জননীর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি পাখিমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ আমেনা খাতুন পাখিমারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শিপন মিয়ার স্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার ভাঙ্গাবাড়ি এলাকার আব্দুল হাকিমের মেয়ে বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আমিনা খাতুনের স্বামী শিপন ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কাজের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূ আমেনা ও তার সন্তানেরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। পরে আনুমানিক রাত দুইটার দিকে আমেনা খাতুনের মেয়ে সাফিয়া ঘুম থেকে উঠে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকে। পরে পাশের অন্য রুমে গিয়ে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় তার চিৎকারে দাদা-দাদি ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
এদিকে স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিপন মিয়া সৌদি আরবে যাওয়ার সময় এলাকার মানুষ ও এনজিও থেকে অনেক টাকা ধার ও ঋণ করেছিলেন। যাওয়ার কয়েক বছর পর থেকেই শিপন মিয়া বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ফলে সৌদি থেকে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে পারতেন না। যার কারনে এনজিও ও বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না আমেনা। টাকা পাঠাতে না পারা ও কিস্তির চাপ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই তার মুঠোফোনে ঝগড়া হতো। এই তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও ঋণের বোঝা সইতে না পেরেই আমেনা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। পরে শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আত্মহত্যার
ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


Explore More Districts