সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এক সংখ্যালঘু কিশোরীকে ধর্ষণের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গত শনিবার সাটুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত সেই বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত বৃদ্ধের নাম মো. সাকিম উদ্দিন (৬৮)। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের গোলড়া পূর্বপাড়া বিশ্বাসবাড়ী গ্রামের মৃত আনছার উদ্দিনের ছেলে।
শনিবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার হরগজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে উপপরিদর্শক এস্কান্দার আলী সর্দার।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নবম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরীর বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী। বাবা-মা অফিসে চলে গেলে সে তার ছোট বোনকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকত। দুই মাস আগে ধুমধাম করে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসে এবং চিকিৎসকের কাছে যায়। চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, কিশোরীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
দুই মাস আগে বিয়ে হওয়া মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা—এই খবর শুনে কিশোরীর অসহায় বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকলে পাশের স্যানিটারি দোকানের মালিক সাকিম উদ্দিন নানা অজুহাতে তাদের বাড়িতে আসত। সে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করত এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে কিশোরীকে ধর্ষণ করত। ধর্ষণের পর সাকিম উদ্দিন তাকে বাবা-মাকে কিছু না বলতে হুমকি দিত। ভয়ে কিশোরী ঘটনাটি কাউকে জানাতে সাহস পায়নি। ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
কিশোরীর বাবা বলেন, “সাকিম উদ্দিন ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।”
উপপরিদর্শক এস্কান্দার আলী সর্দার, “কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। আসামী মো. সাকিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান।”


