শ্রীপুরে প্রথম লেটুস চাষে সফলতা

শ্রীপুরে প্রথম লেটুস চাষে সফলতা

মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-

দূর থেকে দেখলে মনে হবে মাঠের বুকে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা কেউ বিছিয়ে রেখেছে। কিন্তু কাছে গিয়ে বোঝা যায়, এটি কোনো কাপড় নয়, বরং সালাদের অন্যতম সবজি লেটুস এর সবুজ ও লাল রঙের গাছের সমারোহ। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দেবীনগরের কৃষক উত্তম সরকার লেটুস চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন, যা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এই অঞ্চলে ।

লেটুস একটি জনপ্রিয় পাতা জাতীয় সবজি, যা সাধারণত সালাদ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। শ্রীপুরের এই কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে লেটুস চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। দেশে ফাস্ট ফুডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে লেটুসের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু জেলায় এখনো বাণিজ্যিকভাবে লেটুস চাষ শুরু হয়নি। ফলে স্থানীয় ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ীদের যশোর থেকে বেশি দামে লেটুস কিনে আনতে হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে শ্রীপুরের কৃষি বিভাগের সাবির্ক সহযোগিতায় উত্তম সরকার এখন জেলার একমাত্র লেটুস চাষী। এ কৃষকের সফলতা দেখে উপজেলা কৃষি বিভাগ লেটুস চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।

তারা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে লেটুস চাষ সম্ভব। এতে কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে এবং স্থানীয় বাজারেও লেটুস সহজলভ্য হবে। বানিজ্যিক ভাবে লাভবান হবে স্থাণীয় চাষিরা।

কৃষক উত্তম সরকার জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে ২০ শতক জমিতে লেটুস চাষ করেছি। খুব ভাল হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আমার এ ক্ষেত দেখতে আসছে। তারা লেটুস চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সালমা জাহান নিপা জানান, লেটুস চাষে মানুষের  আগ্রহ তৈরিতে জাতীয় পতাকার আদলে চাষ করার কথা ভাবি। তাহলে মানুষ অন্তত দুর থেকে এসে দেখবে। ছবি তুলবে সেটা বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করলে লেটুস সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ তৈরি হবে। এটার চাষ তো একেবারেই নতুন এই অঞ্চলে। মসলা জাতীয় ফসলের জন্য শ্রীপুর খুব বিখ্যাত অত্র এলাকায়। যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে আমরা এই্ কুষককে লেটুস চাষে উদ্বুধ করি। প্রথমে তারা রাজি না হলেও পরে এর অর্থিক বিষয়ে ইতিবাচক জানালে সে চাষ করে।

শুধুমাত্র উপজেলা নই, বরং জেলার কোথাও লেটুস চাষ নেই। শ্রীপুর উপজেলা মসলা জাতীয় ফসলের জন্য সুপরিচিত। তাই এখানে নতুন জাতের ফসল উৎপাদনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যশোর অঞ্চলের টেকসই প্রকল্পের আওতায় এই নতুন উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক হবে। চাষিরা লাভবান হবে বলে তিনি জানান। লেটুস চাষের এই সাফল্য শুধু শ্রীপুরের কৃষকদের জন্য নয়, বরং সারা দেশের কৃষি খাতের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যদি বাণিজ্যিকভাবে লেটুস চাষ বাড়ানো যায় তবে লাভবান হবেন কৃষকেরা। শ্রীপুরের এই কৃষকের লেটুস ক্ষেত একদিকে যেমন সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত, অন্যদিকে কৃষি খাতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। এটি ভবিষ্যতে আরও কৃষকদের লেটুস চাষে উৎসাহিত করতে পারে।

Explore More Districts