শেরপুরে সরকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বেসরকারী হাসপাতাল দখলের অভিযোগ – দৈনিক আজকের জামালপুর

শেরপুরে সরকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বেসরকারী হাসপাতাল দখলের অভিযোগ – দৈনিক আজকের জামালপুর




শেরপুরে সরকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বেসরকারী হাসপাতাল দখলের অভিযোগ – দৈনিক আজকের জামালপুর



বুলবুল আহাম্মেদ
শেরপুর শহরের সজবরখিলা এলাকায় ‘উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে কর্মরত চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার ২ অক্টোবর মধ্যরাতে হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক যোবায়ের রহমান বিপ্লব।
মালিকপক্ষের অভিযোগ, ২০১৮ সালে সজবরখিলা এলাকায় হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২৫ সালে এটি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, শ্রীবরদীর বাসিন্দা ডা. শরিফুল ইসলাম হাসপাতালটিতে চিকিৎসক হিসেবে প্র্যাকটিস করতেন। হাসপাতাল পরিচালনায় লভ্যাংশ প্রদানের চুক্তির ভিত্তিতে তিনি ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। সম্প্রতি ব্যবসায়িক মন্দাসহ নানা কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটে পড়ে। এতে অনেকের বেতন-ভাতা ও লভ্যাংশ বকেয়া রয়েছে বলে জানান মালিকপক্ষ।
মালিকের দাবি, শুক্রবার রাতে হাসপাতালের লভ্যাংশের চুক্তিভিত্তিক অর্থ বিনিয়োগকারী তৌহিদুল ইসলাম রাজিব তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে গালাগাল ও হুমকি দেন। এর কিছু সময় পরই ডা. শরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি জামালপুর থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন।
এরপর সোমবার রাতে হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মালিক যোবায়ের রহমান বিপ্লবের বিরুদ্ধে উল্টো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এদিকে, যোবায়ের রহমান বিপ্লবের দাবি, সজবরখিলা এলাকায় ১৪ শতাংশ জমি কেনার জন্য তৌহিদুর রহমান পাপ্পুকে বায়না বাবদ ৮০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি এবং বায়নার টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যোবায়ের রহমান বিপ্লব বলেন, হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে থাকা ব্যবসায়িক হিসাব ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা তার কাছে টাকা পাবেন, তাদের পাওনা পরিশোধ করতে তিনি প্রস্তুত। পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এ কারণে হাসপাতাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. শরিফুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


Explore More Districts