
ঢাকা, ৩ মে – শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার। বইয়ের পরিবর্তে স্মার্ট ডিভাইসের প্রতি আসক্তি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কিশোর বয়সে এই প্রযুক্তি আসক্তি সহিংসতা ও অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং কালচার বৃদ্ধির পেছনেও প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গ্রুপ খুলে অপরাধীরা দ্রুত সংগঠিত হচ্ছে যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এই সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির স্থাপন করেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ডেনমার্কও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের পথে হাঁটছে। চীন ইতোমধ্যে শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ডিজিটাল প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও টিকটকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এই চিত্র উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ছে।
গত এক বছরে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে অন্তত ২০৯টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু পারিবারিক তদারকি দিয়ে এই আসক্তি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।
এস এম/ ৩ মে ২০২৬





