মেহেদী হাসান করেছেন চামড়ার ওপর এমব্রয়ডারি ও ধাতব পাতের কাজ। তিনটি আলাদা কাজের এই গুচ্ছটিতে তিনি যুদ্ধ, শিশু নির্যাতন ও পশুদের ওপর হিংসাত্মক আচরণের বিষয় তুলে এনেছেন।
মনির মৃত্তিক প্রদর্শনী কক্ষের মেঝেতে করেছেন ‘উন্নয়ন’ নামের একটি স্থাপনাকর্ম। নকশিকাঁথার মতো সূচিকর্মের বিশাল পটভূমিতে শহরের রাস্তা, খাল, নদী এসব ফুটিয়ে তোলা। তার ওপরে ছোট ছোট ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভবন, সেতু, প্রাচীর। বিপন্ন গাছপালা আর বিপর্যস্ত প্রকৃতির বিষয়টিও উঠে এসেছে এই আগ্রাসী নগরায়ণের চিত্রকল্পে। এভাবেই শিল্পীরা তাঁদের নিজেদের ভাবনা নিয়ে আলাদা আলাদা কাজ করেছেন।
এ ছাড়া শিল্পীরা সবাই মিলে প্রায় ৬৫ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল কাজ করেছেন কক্ষের দক্ষিণ দিকের দেয়ালজুড়ে। শিল্পীরা জানালেন, পুরান ঢাকায় পণ্যের মোড়ক তৈরির কারখানাগুলোতে অনেক রকম পণ্যের প্যাকেট তৈরি হয়। পলিথিন, কাগজ, কাপড়সহ অনেক রকমের মাধ্যমে এসব মোড়ক বা প্যাকেট তারা তৈরি ও মুদ্রণ করে। সেই মোড়কগুলো নিয়েই দেয়ালজুড়ে কোলাজের নকশা করেছেন শিল্পীরা। সেখানে মানুষের অবয়ব আছে অনেক ভঙ্গিতে। আছে অনেক ধরনের প্রাণী ও পাখি, গাছ লতাপাতার আদল। পণ্য সংস্কৃতি আর জীবনযাপন কীভাবে একাকার হয়ে গেছে—এই বর্ণবহুল নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পীরা দেখিয়ে দিলেন দর্শকদের।


