বেনাপো প্রতিনিধ: যশোরের শার্শায় আলোচিত সাংবাদিক জামাল উদ্দিন হত্যা মামলাসহ ১৮টি মামলার আসামি মো. উকিল মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট-২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শার্শা থানা পুলিশ জানায়, উকিল মল্লিকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, একটি গণধর্ষণ, একটি মানব পাচার, একটি অস্ত্র আইনে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটিসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। তিনি কাশিপুর গ্রামের মৃত শমসের মল্লিকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার শার্শা থানার এসআই মো. শরিফুল ইসলাম, এএসআই মো. নজিবুল্লাহ ও এএসআই মো. আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত উকিল মল্লিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অপর আসামি হলেন মো. আব্দুল কাদের (২০)। তিনি নাভারণ রেলবাজার এলাকার সালাম গাজীর পালিত সন্তান। তার বিরুদ্ধে শার্শা থানায় গত (২ জুলাই) দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের পরোয়ানা ছিল। তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে উকিল মল্লিকের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে শার্শার কাশিপুর বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে সাংবাদিক জামাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় মাদকচক্রের প্রধান তোতা মিয়া ও তার সহযোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, পরে পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে নিয়ে জামাল উদ্দিনের পায়ের রগ কেটে এবং চোখ উপড়ে ফেলে তাকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। চোরাচালানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও এ-সংক্রান্ত অভিযোগের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জামাল উদ্দিনের বাবা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে শার্শা থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে উকিল মল্লিকও রয়েছেন।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা ছিল। পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।উকিল মল্লিকের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বিষয়েও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

