হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর এলাকায় খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হবিগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সামিউল আজম, সহকারী রেভিনিউ অফিসার শাহাদত হোসেন এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
অভিযানকালে তদন্তে দেখা যায়, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির নির্ধারিত সীমানার বাইরে আলাপুর মৌজার বিভিন্ন দাগ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি কেটে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বাইরে রাতেও বালু উত্তোলন করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর তীর, সংলগ্ন ফসলি জমি ও পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে বাঁধে ছিদ্র করে ড্রেজারের পাইপ প্রবেশ করানোয় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা জানান, গত ৯ জুলাই খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। অভিযানে শনাক্ত হওয়া ড্রেজিং কার্যক্রমের স্থানটি ওই ভাঙনস্থল থেকে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
অভিযানকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অপরাধের গুরুত্ব ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনায় মোবাইল কোর্টে বিচারযোগ্য নয় বলে মত দিয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭(ক) ধারা এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় জব্দ করা ড্রেজিং যন্ত্রপাতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সামিউল আজমের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং দ্রুত যন্ত্রাংশ বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


