
বৈরুত, ৬ সেপ্টেম্বর – মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া কাঠামো চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার সকালে চালানো এসব হামলায় হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র জানায়, নাবাতিয়েহ আল ফাওকা এলাকায় হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নাবাতিয়েহ শহরের আল রাহিবাত মহল্লায় এক নারী ও এক কিশোরীসহ আটজন আহত হয়েছেন। আরব সালিম এলাকায় পৃথক হামলায় দুজন নারী নিহত এবং দুজন কিশোরীসহ ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কাফার রেম্মানেও চারজন নারী আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আরব সালিমের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ভোর থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়।
হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে নাবাতিয়েহ জেলার কাফার রেম্মান এলাকার সাবেক মেয়র আলি মোয়াল্লেমের বাড়িও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর পাঠানো একটি ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে। ২৬ জুন স্বাক্ষরিত মার্কিন সমর্থিত কাঠামো চুক্তির মধ্যেই এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত চার হাজার ৩৫৮ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৫৯ জন আহত হয়েছেন।
এস এম/ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কতজন নিহত হয়েছেন?
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে রবিবারের হামলায় ৪ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
কোন কোন এলাকায় হামলা হয়েছে?
নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা, নাবাতিয়েহ শহরের আল-রাহিবাত এলাকা, আরব সালিম এবং কাফার রেম্মানসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় হামলা হয়েছে।
ইসরায়েল কেন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে?
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর দুটি ড্রোন তাদের দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনাদের দিকে পাঠানোর পর তারা পাল্টা হামলা চালায়।
হামলায় কি নারী ও শিশু হতাহত হয়েছেন?
হ্যাঁ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে আরব সালিমে নিহত দুজনই নারী এবং আহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে। নাবাতিয়েহেও নারী ও শিশু আহত হয়েছেন।
২৬ জুনের কাঠামো চুক্তি কী?
চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা, ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং নির্দিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

