লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং–এর ৬৮তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা গভর্নর লায়ন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপু বলেছেন, চট্টগ্রামে লায়নিজমের বিকাশে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং গত ৬৮ বছর ধরে এক অনন্য অবদান রেখে চলেছে। যার প্রেক্ষিতে একটি ক্লাব থেকে চট্টগ্রামে আজ ১০০–এর অধিক ক্লাবে লায়নিজম বিকশিত হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা যেন আমাদের পরবর্তী নেতৃত্ব বজায় রাখতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা।
গতরাতে নগরীর সিনিয়র্স ক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদ্য প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন কোহিনূর কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ১ম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মো. কামরুজ্জামান লিটন ও ২য় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন জেলা গভর্নর, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দৈনিক আজাদী সম্পাদক লায়ন এম এ মালেক, প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন কবির উদ্দিন ভূঞা, প্রাক্তন জেলা গভর্নর, একুশে পদকপ্রাপ্ত লায়ন রফিক আহমেদ ও প্রাক্তন জেলা গভর্নর, সিএলএফ চেয়ারম্যান লায়ন নাছির উদ্দিন চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৬৮ তম চার্টার নাইট চেয়ারম্যান লায়ন এম সোহেল খাঁন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট লায়ন রেবেকা নাসরিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাক্তন জেলা গভর্নর লায়ন কোহিনূর কামাল বলেন, এ ক্লাবের ঐতিহ্য বলে শেষ করা যাবে না। এটাকে সামনে নিয়ে যাওয়া–ই আমাদের কাজ। আমাদেরকে এ কাজটা করতে হবে। লায়ন মো. কামরুজ্জামান লিটন বলেন, প্রাক্তনরা আমাদেরকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেটিকে আমাদের আরো সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। লায়ন আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, লায়নিজমের চেয়ারটাই সম্মান, এখানে ব্যক্তিগত বলতে কিছু নেই।
দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, অসহায় মানুষদের জন্য আমাদের প্রত্যেকের কাজ করা উচিৎ। তাদের জন্য কিছু করতে পারাই সার্থকতা। দেখতে হবে যে, আমাদের থেকে কম সৌভাগ্য কার, চেষ্টা থাকতে হবে যে, তাদের জন্য আমরা নিজেদের থেকে যাতে কিছু দিয়ে দিতে পারি। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত সদস্য, প্রাক্তন গভর্নর লায়ন আসলাম চৌধুরী, প্রাক্তন গভর্নর নাজমুল হক চৌধুরী, প্রাক্তন গভর্নর ডা. শ্রীপ্রকাশ বিশ্বাস, প্রাক্তন গভর্নর এম মনজুর আলম, প্রাক্তন গভর্নর লায়ন কামরুন মালেক উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, যুগে যুগে মানবতার জয় হোক। সামপ্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা, যুদ্ধ, বোমাবাজিসহ সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অবসান হোক। জাগরিত হোক মানবিক মূল্যবোধ, বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক বিশ্ব শান্তি। বক্তারা আরো বলেন, একদিকে সাগর, অন্যদিকে পাহাড় ঘেরা প্রকৃতির অপরূপ নিকেতন হচ্ছে বন্দর নগরীর চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রামের সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল এর গোড়াপত্তন। ১৯৫৮ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশ লায়ন্স এর জনক মরহুম লায়ন এম আর সিদ্দিকীর নিপূণ হাতের গড়া লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন লায়ন তপন কান্তি দত্ত ও লায়ন আয়েশা হক শিমু।




