‘এ দেউলা, দেবীরচর, লালমোহন। ফার্স্ট টিপ, ফার্স্ট টিপ’, ‘বগা, পটুয়াখালী, কালাইয়া’—গতকাল বুধবার দুপুরে এমনই হাঁকডাক একটানা ভেসে আসছিল রাজধানীর সদরঘাটের পন্টুন থেকে। সামনেই সারি সারি দাঁড়িয়ে দোতলা-তিনতলা লঞ্চ। এদের কোনোটি দুপুরে, কোনোটি সন্ধ্যায়, আবার কোনোটির রাতে ছেড়ে যাওয়ার কথা। তবে দুপুর গড়াতেই অধিকাংশ লঞ্চ প্রায় যাত্রীতে ঠাসা।
সেখানেই কিছু দূরে দাঁড়িয়ে সুন্দরবন-১৪ লঞ্চ। ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা বেলা দুইটায়। তবে তিনটার সময়ও লঞ্চের বাইরে হাঁকডাক চলছে। হাতে, কাঁধে, মাথায় ব্যাগ, বস্তায় মালামাল নিয়ে অনেকেই লঞ্চে উঠছেন, জায়গা না পেয়ে আবার নেমেও আসছেন।
লঞ্চের বাইরে পন্টুনের এক কোনায় বেশ কয়েকটি ব্যাগ রেখে সেটির ওপর বসে আছেন শরিফুল আলম। সঙ্গে পরিবারের তিন নারী সদস্য। বললেন, ‘পটুয়াখালী যাব। একটু স্বস্তিতে যাওয়ার জন্য এখানে আসছি। তবে লঞ্চে সিট মেলেনি। ওরা (লঞ্চের কর্মীরা) বলল, আরেকটা লঞ্চ নাকি আসবে। তাই পন্টুনে বসে আছি।’
