
নেপিডো, ১৬ জানুয়ারি – রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মায়ানমার। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দেশটি জানায়, রাখাইন রাজ্যে পরিচালিত অভিযান ছিল সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ, কোনো গণহত্যা নয়।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে দ্য গাম্বিয়ার আনা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মন্ত্রী কো কো হ্লাইং বলেন, এই মামলার রায় প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত, আবেগপ্রবণ বক্তব্য বা অস্পষ্ট বর্ণনার ওপর নয়।
দ্য গাম্বিয়ার অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের কর্মকাণ্ড ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ গণহত্যা সনদের লঙ্ঘন। তবে মায়ানমারের দাবি, ২০১৭ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় একাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার পর তাদের নির্মূল করতেই ওই অভিযান চালানো হয়।
কো কো হ্লাইং বিচারকদের বলেন, উত্তর রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীদের অবাধ তৎপরতা মেনে নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা মায়ানমারের ছিল না। তিনি আরও বলেন, তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ মূলত একটি সামরিক পরিভাষা, যা বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আদালত আগামী তিন সপ্তাহ ধরে প্রমাণ ও যুক্তি শুনবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মায়ানমার গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না।
উল্লেখ্য, এই সনদের আওতায় কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করতে পারে। আদালতের রায় কার্যকর করার সরাসরি কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও, দ্য গাম্বিয়ার পক্ষে রায় গেলে মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
কো কো হ্লাইং বলেন, গণহত্যার দায় প্রমাণিত হলে তা মায়ানমার ও তার জনগণের জন্য এক অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে থাকবে এবং দেশের সুনাম ও ভবিষ্যতের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬



